ঢাকা , বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ , ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৩-০৫-২০২৬ ১১:০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ১৩-০৫-২০২৬ ১১:০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন ছবি : সংগৃহীত
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কোরে সফলভাবে ফ্রেশ পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। এটি বিদ্যুৎ ইউনিটটির কমিশনিং এবং বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল শুরু হওয়ার পর ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টর কোরে মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এটিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাশিয়ার পরমাণু সংস্থা রসাটম এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক এবং এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি ডেইরি বলেন, প্রাথমিক কোর লোডিং কর্মসূচি পরিচালনাগত বিধিমালা এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী ধাপে রিঅ্যাক্টরের উপরের অংশ স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ইন-কোর ইনস্ট্রুমেন্টেশন সিস্টেম সংযুক্ত করা হবে। এরপর সব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে শত শত অতিরিক্ত পরীক্ষা চালানো হবে।

প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিগগিরই রিঅ্যাক্টরকে ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন স্তরে নিয়ে আসা হবে এবং ধাপে ধাপে এর ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এই প্রক্রিয়াগুলো প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু এবং পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক পরিচালনার পথ সুগম করবে।

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, প্রতি মাসে ১০-১৫ শতাংশ হারে উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে। ফিজিক্যাল স্টার্টআপের পর পূর্ণ ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগতে পারে প্রায় ৮ থেকে ১০ মাস। এ বছরের শেষের দিকে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান।

প্রসঙ্গত, পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এখানে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের মোট চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে পরমাণু ক্লাবে যুক্ত হয়েছে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ