ঢাকা , সোমবার, ১১ মে ২০২৬ , ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​পুলিশের কেউ চেইন অব কমান্ড ভাঙলে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১১-০৫-২০২৬ ০৩:৩৫:২৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১১-০৫-২০২৬ ০৩:৩৫:২৩ অপরাহ্ন
​পুলিশের কেউ চেইন অব কমান্ড ভাঙলে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ​সংবাদচিত্র : ফোকাস বাংলা নিউজ
পুলিশের যারা চেইন অব কমান্ড ভাঙবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। 

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ’ অনুষ্ঠানে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং পুলিশকে হতে হবে জনগণের প্রকৃত বন্ধু। থানায় আসা কোনো সেবাপ্রার্থী যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব। মনে রাখতে হবে, আপনাদের প্রতিটি আচরণে রাষ্ট্রীয় সেবকের প্রতিফলন ঘটতে হবে। ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’—এই স্লোগানটি কেবল মুখে নয়, কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীতে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের অপারেশনাল কার্যক্রম, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য কাজে স্বচ্ছতা বাড়াতে বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো হবে। ভবিষ্যতে সব পর্যায়ে এগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করে তদন্ত ও অপারেশন সংক্রান্ত কার্যক্রম রেকর্ড করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যূনতম বলপ্রয়োগ বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানবাধিকারের বিষয়টি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ দমন বা প্রসিকিউশন টিমকে সহযোগিতা এবং তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে কৌশলগতভাবে কাজ করতে হবে।

রিঅ্যাক্টিভ নয়, প্রোঅ্যাক্টিভ পুলিশিংয়ে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধ করতে হবে। অপরাধ ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়া বা ‘রিঅ্যাক্টিভ’ পুলিশিংয়ের চেয়ে অপরাধ যাতে না ঘটে সেই ‘প্রিভেন্টিভ’ বা ‘প্রোঅ্যাক্টিভ’ পুলিশিংয়ে জোর দেয়া সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও সাইবার অপরাধ দমন বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত অপরাধ, গুজব ও অপপ্রচার রোধে পুলিশ বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশিং কেবল অপরাধ দমনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

ব্যক্তিগত সততা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে। বাহিনীর শৃঙ্খলার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। প্রতিটি পদক্ষেপ যেন বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। চেইন অব কমান্ড যারা ভাঙবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিট পুলিশিং ও সামাজিক প্রতিরোধ বিষয়ে তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে অপরাধ দমনে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে পাড়া-মহল্লায় অপরাধীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে হবে। মাদক, সন্ত্রাসবাদ এবং উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ