১২০ টাকা চুরির অপবাদে নির্যাতন, অপমানে কিশোরীর আত্মহত্যা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৯-০৫-২০২৬ ০৬:০১:১৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৯-০৫-২০২৬ ০৬:০১:১৯ অপরাহ্ন
প্রতীকী ছবি
১২০ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করায় এক কিশোরী অপমানে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৮ মে) বিকালে পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের চিনাভাতকুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন চাটমোহর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা।
১৪ বছরের শ্রাবন্তী ওই গ্রামের দিনমজুর আলতাব হোসেনের মেয়ে। তিনি প্রায় এক বছর ধরে প্রতিবেশী হান্নান মোল্লার বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে হান্নান মোল্লার ঘরের আলমারির ড্রয়ার থেকে ১২০ টাকা হারিয়ে যায়। এতে শ্রাবন্তীকে অভিযুক্ত করেন হান্নান ও তার স্ত্রী রুবিয়া খাতুন।
একপর্যায়ে তারা শ্রাবন্তীর দুই হাত রশি দিয়ে ঘরের বারান্দার খুঁটির সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে।
এই নির্যাতনের সময় উপস্থিত প্রতিবেশীদের কেউ কেউ তা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। এমন অপমান ও শারীরিক লাঞ্ছনা মানসিকভাবে ভেঙে দেয় কিশোরীকে। নির্যাতনের পর ছাড়া পেয়ে বাড়িতে চলে যান তিনি।
পরে শ্রাবন্তীর মা আছিয়া খাতুন ও বাবা আলতাব হোসেন বাড়িতে ফিরে ঘরের আড়ার সঙ্গে মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
খবর পেয়ে চাটমোহর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে কিশোরীকে নির্যাতনের অভিযোগে হান্নান মোল্লাকে (৪৫) আটক করে।
তবে তার স্ত্রী রুবিয়া খাতুনকে পুলিশ আটক না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, রুবিয়া খাতুনও এই নির্যাতনের সমান অংশীদার ছিলেন।
শ্রাবন্তীর মামা সিফাত হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “আমার ভাগ্নি যদি চুরি করেও থাকে, তবে তার বাবা-মাকে জানানো যেত। কিন্তু তারা তা না করে সবার সামনে খুঁটিতে বেঁধে পিটিয়েছে। এই অপমান সইতে না পেরেই মেয়েটা নিজের জীবন দিল। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে কিশোরীকে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অন্য জড়িতদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স