দূর্ভোগে ঢাকা দক্ষিণের বর্ধিত ১৮ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৮-০৫-২০২৬ ১১:৪৬:৪০ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
০৮-০৫-২০২৬ ১১:৪৬:৪০ পূর্বাহ্ন
ফোকাস বাংলা নিউজ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়া বর্ধিত ১৮টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ৮ বছর ধরে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ভাঙ্গা সড়ক, মেঠোপথ, বাঁশের সাঁকো ও জলাবদ্ধতা এখন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। ড্রেন ও কালভার্ট না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। আর বর্ষা মৌসুমে চলাচলের ভরসা নৌকা। বাসিন্ধাদের আক্ষেপ রাজধানীর বুকে থেকে তারা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত বছরের পর বছর ধরে। সেই সঙ্গে রয়েছে নিরাপদ ও টেকসই বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের অভাব। ফলে ঝড়-বৃষ্টি হলেই চলে যায় বিদ্যুৎ। অন্ধকারে ঢেকে যায় পুরো এলাকা। বেড়ে যায় চুরি ছিনতাই আতঙ্ক।
এই এলাকার দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। নগরের চাপ কমাতে ২০১৭ সালে নাসিরাবাদ ইউনিয়নসহ মোট ১৮টি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটির পরিসর বাড়ানো হয়। মানচিত্র বদলেছে, ঠিকানা বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি মানুষের জীবনমান। ৮ বছর পার হলেও এসব ওয়ার্ডে পৌঁছায়নি কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা।
সরজমিনে দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণের ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড নাসিরাবাদে এখনও মেঠোপথের পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে জলাধার। বাঁশের সাঁকোই পারাপারের একমাত্র উপায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাকা রাস্তা নেই, চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কিছুটা এগোলেই ৭০ নম্বর ওয়ার্ড। সেখানে সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে ধীরগতিতে, আর অর্ধনির্মিত ও পানিতে ডোবা পথই এখন মানুষের ভোগান্তির প্রতীক।
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব আলী, কামরুল ইসলাম, সাথী বেগম এই প্রতিবেদককে জানান-সিটি করপোরেশনের ট্যাক্স দিয়েও কোনো সুযোগ-সুবিধা মিলছে না। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্সও পাওয়া যায় না। অনেক রাস্তায় সড়ক বাতিও নেই। ফলে রাতের বেলায় অন্ধকারে চুরি ছিনতাই বেড়ে গেছে।
ড্রেন ও কালভার্টের অভাবে জলাবদ্ধতা নিয়েই চলছে ৬৩ থেকে ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের জীবনযাত্রা। বিষয়টি নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের কণ্ঠেও অসহায়ত্বের সুর শোনা যায়। ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এখানে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষের বসবাস, যারা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পানি সম্পদ মন্ত্রী ও সিটি করপোরেশন বরাবর একাধিক চিঠি দেয়া হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিনের এই সংকট সমাধানে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রশাসন। প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, বরাদ্দের জন্য সরকারকে জানানো হয়েছে। সেখানে রাস্তা, বিদ্যুৎ লাইন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি সহায়তা পেলে দ্রুত এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স