বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-ফ্লাইং অ্যাকাডেমির ঘোষণা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৭-০৫-২০২৬ ০৬:৩২:৪১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-০৫-২০২৬ ০৬:৩২:৪১ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে এখানে বিমানবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি স্থাপন এবং পাইলট তৈরির জন্য একটি ফ্লাইং অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৭ মে) দুপুরে বগুড়া এয়ারফিল্ড ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও বিমানবাহিনী প্রধান এসব তথ্য জানান।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, উত্তরবঙ্গের প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে বগুড়াকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষিপণ্য ও শিল্পজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক রফতানি সহজ হবে এবং উত্তরাঞ্চল সরাসরি বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।
এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, নতুন বিমানবন্দরের জন্য ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফিজিবিলিটি স্টাডি দ্রুত শুরু হবে। ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের বাজারমূল্যের তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, বগুড়ার কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় এখানে একটি আধুনিক বিমানঘাঁটি স্থাপনের প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। তিনি জানান, নতুন যুদ্ধ বিমান কেনার প্রক্রিয়া চলছে, আর সে আধুনিক বিমানগুলো বগুড়া ঘাঁটিতেই মোতায়েন করা হবে।
বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দক্ষ পাইলট তৈরির জন্য বগুড়ায় একটি উন্নত ফ্লাইং অ্যাকাডেমি গড়ে তোলা হবে। এতে দেশের তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারি সূত্র বলছে, এ প্রকল্প শুধু একটি বিমানবন্দর নির্মাণ নয়, বরং উত্তরাঞ্চলকে নতুন অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। এর মাধ্যমে বাণিজ্য, পর্যটন ও প্রতিরক্ষা খাতে সমন্বিত উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটি একসঙ্গে গড়ে উঠলে বগুড়া দেশের আকাশপথের গুরুত্বপূর্ণ হাব হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে শিল্প ও রফতানিমুখী অর্থনীতিতে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার খুলবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় এমপি, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এবং সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স