তলিয়ে গেছে ক্ষেত, নষ্ট হচ্ছে ফসল, মিলছে না ক্রেতা
টানা বৃষ্টিতে সবজি নিয়ে বিপাকে চাষিরা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৭-০৫-২০২৬ ০২:৫১:৪১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-০৫-২০২৬ ০২:৫৭:৪১ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মুন্সীগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকার সবজিখেত পানিতে তলিয়ে পচে নষ্ট হচ্ছে ফসল। ক্ষতি কমাতে বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব সবজি আগেভাগেই তুলে রাস্তার পাশে বসে বিক্রি করছেন কৃষকরা। তবে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ সবজি বাজারে আসায় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা। দিনভর এমনকি রাত পর্যন্ত রাস্তার পাশে বসে থেকেও অনেককে ফিরতে হচ্ছে অবিক্রীত সবজি নিয়ে। শুধু অপরিপক্ব সবজিই নয়, মৌসুমের পরিপক্ব বাঙ্গি ও চিনালও বিক্রি করতে না পেরে জমিতেই ফেটে নষ্ট হচ্ছে। এতে চরম হতাশা আর লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার কৃষকেরা।
সরেজমিনে, মুন্সীগঞ্জ সদর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন কৃষি জমি ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। বেতকা চরাঞ্চলের মামুদাতপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জমিতেই পচে নষ্ট হচ্ছে বাঙ্গি, চিনাল, উস্তা করলা, কহি, ধুন্দল, লাউ, চালকুমড়া, ঝিঙাসহ বিভিন্ন সবজি। ভারি বৃষ্টিতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি কৃষকদের। মামুদাতপুর এলাকার টঙ্গিবাড়ী-ঢাকা সড়কের পাশে কৃষকদের তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রির জন্য নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় রাত পর্যন্ত।
রাস্তার পাশে এক ঝুড়ি চিনাল নিয়ে বসে আছেন জুবায়ের। এক ঝুড়ি চিনালের তিনি দাম হাকছেন ৩০০ টাকা। হাকডাক দিয়ে ক্রেতা ডেকেও পাচ্ছেন না। জুবায়ের বলেন, দুপুরে চিনাল নিয়ে আসছি এখনো বিক্রি করতে পারছি না। চিনালগুলো পেঁকে ফেটে যাওয়ায় এগুলো এখন বিক্রি করতে না পারলে নষ্ট হয়ে যাবে। দাম যা পাই বিক্রি করা প্রয়োজন।
চর মামুদাতপুর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বেপারী বলেন, এক একর জমিতে চিনাল লাইগাইছিলাম, বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এখোন দাম একবারে কম। একদিকে বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে গরম কমে যাওয়ায় চিনাল ও বাঙ্গির চাহিদা কম। আমরা বিষ না দিয়ে আলোর ফাঁদ তৈরি করে পোকা মাকর দমন করি। আমাদের সবজি একবারে বিষ মুক্ত।
অপর চাষি গৌরাঙ্গ বলেন, ১০ বিঘা জমিতে সবজি ওইস্তা চাষ করেছিলাম। আমার দুই লাখ টাকা খরচ। ৬০-৭০ হাজার টাকার মতো বিক্রি করছি। এখোন বৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়ে গেছে, আর বিক্রি করা যাবে না। চাষি রামজয় বলেন, দেড় একর জমিতে ওইস্তা লাগাইছিলাম। বৃষ্টির কারণে সব নষ্ট হয়ে গেল। বিশ হাজার টাকার মতো বিক্রি করছি, ৪০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছিল।
এদিকে জমি হতে চিনাল কিনতে পাশের লৌহজং উপজেলা হতে আসা পাইকার শাহিন বলেন, বৃষ্টিতে জমির মধ্যে বাঙ্গি-চিনাল নষ্ট হচ্ছে। যার কারণে অনেক কমদামে আমি জমি হতে বাঙ্গি চিনাল কিনতে পারছি। এগুলো নিয়ে আমার এলাকায় ভালো দামে বিক্রি করতে পারব।
এ মৌসুমে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী, রামপাল, মহাখালী, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং-টঙ্গিবাড়ী, আবদুল্লাহপুর ও বেতকা ইউনিয়ন ও তার আশপাশের জমিগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চাষ হয় বাঙ্গি, চিনাল, করলা, ওইস্তা, কহি, ধুন্দল, লাউ, চালকুমড়া, ঝিঙা, বেগুনসহ অন্যান্য সবজি। কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে এখানকার বেশ কিছু কৃষক সমন্বিত বালাইনাশকের মাধ্যমে জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ না করে ও ফাঁদ পেতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছেন। যা অসময়ে অতি বৃষ্টির কারণে জমিতেই পচে নষ্ট হচ্ছে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এ বছর মুন্সীগঞ্জে ৩ হাজার ৮৭৪ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতিগ্রস্তের একটি তালিকা প্রাথমিকভাবে আমরা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। এ বছর জেলায় ২৪ হাজার ৬২৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপন করা হয়েছিল এর মধ্যে ৭৯৭ হেক্টর জমির ধান ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া তিল ভূট্টা এবং পাটেরও অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতি হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স