ঢাকা , বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ , ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু ধর্ষণে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৬-০৫-২০২৬ ০২:২৬:০৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৬-০৫-২০২৬ ০২:২৬:০৬ অপরাহ্ন
শিশু ধর্ষণে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার ​অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ও শিশুটির আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার মদনে ১২ বছরের শিশু মাদ্রাসার শিক্ষক দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। বুধবার (০৬ মে) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মদন থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (০৫ মে) রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের পর আসামিকে নেত্রকোণা জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

এর আগে শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় মদন থানায় ভুক্তভোগীর মা অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে অভিযুক্ত করে অভিযোগটি দায়ের করেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসামি আমান উল্লাহ সাগরের বাড়ি উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহাড় বড়বাড়ি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের হযরত ফাতেমা-তুজ-জোহরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক। ২০২২ সালে এ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। মাদ্রাসাতে তার স্ত্রীও শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। 

ওই এলাকার বাসিন্দা বিধবা নারীর একমাত্র মেয়ে ভুক্তভোগী শিশু। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ভুক্তভোগীর মা সিলেটে গৃহপরিচালিকার কাজ করেন। ভুক্তভোগী শিশু নানির কাছে থেকে কওমি মাদ্রাসায়  লেখাপড়া  করত। এর মধ্যে গত নভেম্বরে আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এজাহার সূত্রে আরও জানা গেছে, ধর্ষণের ঘটনা কাউকে না জানাতে ভুক্তভোগী শিশুকে প্রাণনাশের ভয় দেখান আসামি আমান উল্লাহ সাগর। পরে ওই শিশুকে মাদ্রাসা থেকে বিতারিত করা হয়। পাঁচ মাস পার হওয়ার পর শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন আসে। জিজ্ঞাসাবাদ করার একপর্যায়ে শিশুটি তার মায়ের কাছে জানায়, মাদ্রাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর তাকে ধর্ষণ করেছে।  

ঘটনাটি জেনে শিশুটির মা এলাকাবাসীর কাছে বিচার চান। আমান উল্লাহ সাগরের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের হুমকি দেয় এবং এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করে। গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা মদন থানায় গিয়ে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে আসামি করে মামলা করেন।

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ