ঢাকা , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ , ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​কেরালায় সরকার গঠনের পথে কংগ্রেস জোট, পিছিয়ে বামফ্রন্ট

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৪-০৫-২০২৬ ০৩:২৭:১৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৪-০৫-২০২৬ ০৩:২৭:১৯ অপরাহ্ন
​কেরালায় সরকার গঠনের পথে কংগ্রেস জোট, পিছিয়ে বামফ্রন্ট ​ছবি: সংগৃহীত
কেরালা বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইউডিএফ ৯০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে থেকে সরকার গঠনের পথে রয়েছে। বিপরীতে ক্ষমতাসীন লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) ৪০টির কিছু বেশি আসনে এগিয়ে থাকায় তাদের অবস্থান ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। অপরদিকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) কয়েকটি আসনে সীমিত লিড ধরে রেখেছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া ভোট গণনার শুরুতেই পোস্টাল ব্যালটের ফলাফলে ইউডিএফের আধিপত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা বুথফেরত সমীক্ষার পূর্বাভাসের সঙ্গে মিল রেখেছে। প্রথম দফায় ইউডিএফ ৬০–৬৮টি আসনে এগিয়ে থাকলেও পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে তাদের লিড দ্রুত বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে তা ৯৫টির বেশি আসনে পৌঁছে যায়।

এদিকে, এলডিএফের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যের পিছিয়ে পড়া। মন্ত্রী ভি এন বাসবন, আর বিন্দু, বীণা জর্জ, জে চিঞ্চুরানি, রামচন্দ্রন কাদন্নাপল্লী ও এম বি রাজেশ নিজ নিজ আসনে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন। পাশাপাশি বর্তমান বিধায়ক কে কে শৈলজা, দালিমা ও ইউ প্রতিভার পিছিয়ে পড়া বাম শিবিরের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের আসন ধর্মডমে। তার দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনেও তিনি পিছিয়ে পড়েছেন। প্রথম দুই দফার গণনা শেষে ইউডিএফ প্রার্থী আব্দুল রশীদ দুই হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। নেমম আসনেও নাটকীয় পালাবদল দেখা গেছে। শুরুতে এলডিএফ প্রার্থী ভি শিবনকুট্টি এগিয়ে থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেই লিড হারিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর এগিয়ে যান। একইভাবে মঞ্জেশ্বরম আসনে বিজেপির কে সুরেন্দ্রন তার প্রাথমিক লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এলডিএফের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী—যাদের মধ্যে ও আর কেলু, পি রাজীব, কে বি গণেশ কুমার, ভি আবদুরহিমান, এ কে শশীনন্দ্রন ও রশি অগাস্টিন রয়েছেন—নিজ নিজ আসনে পিছিয়ে পড়েছেন। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, রাজ্যজুড়ে এলডিএফের বিরুদ্ধে ভোটারদের একধরনের অসন্তোষ কাজ করেছে।

৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই বিধানসভা নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের শাসনের পর এলডিএফ সরকারের প্রতি জনমনে ক্লান্তি এবং মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও স্থানীয় ইস্যুগুলো ভোটে প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে, ইউডিএফ নির্বাচনী প্রচারে পরিবর্তনের বার্তা এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।

ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হলেও বর্তমান প্রবণতা বলছে, কেরালার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে এবং ইউডিএফ সরকার গঠনের দিকে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে রয়েছে।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ