ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬ , ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবার কাছ থেকে মেয়েকে অপহরণ, আসলে কী হয়েছিল?

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০২-০৫-২০২৬ ০৪:০৭:০০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০২-০৫-২০২৬ ০৪:০৭:০০ অপরাহ্ন
বাবার কাছ থেকে মেয়েকে অপহরণ, আসলে কী হয়েছিল? ​ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর উত্তরায় প্রকাশ্যে বাবার কাছ থেকে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। সিনেমার দৃশ্যের মতো এই অপহরণের ঘটনার ৯ দিন পর অবশেষে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। কীভাবে ঘটেছিল পুরো ঘটনা- তা নিয়ে বিস্তারিত উঠে এসেছে তদন্তে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল দুপুরে পরীক্ষা শেষে ওই শিক্ষার্থী তার বাবার সঙ্গে বাসায় ফিরছিল। উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কে পৌঁছালে হঠাৎ করেই লামীন ইসলাম (১৯) নামে এক যুবক তাদের সামনে এসে দাঁড়ায়।

প্রথমে সে শিক্ষার্থীকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে বাবার ওপর হামলা চালানো হয়। কিছুক্ষণ পর আরও ৬–৭ জন যুবক ঘটনাস্থলে এসে যোগ দেয় এবং সম্মিলিতভাবে বাবাকে মারধর করে শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেট কারে তুলে নিয়ে যায়।

সিসিটিভিতে ধরা পড়ে ভয়াবহ দৃশ্য
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দিনের আলোয় ব্যস্ত সড়কে পুরো ঘটনাটি ঘটে। বাবা অসহায়ের মতো প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও সংখ্যায় বেশি হওয়ায় অপহরণকারীদের ঠেকাতে পারেননি। দ্রুত গাড়িতে তুলে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দুর্বৃত্তরা।

মামলা ও পুলিশের অভিযান
ঘটনার দিনই ভুক্তভোগীর বাবা উত্তরা পূর্ব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এরপর থেকেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

৯ দিন পর উদ্ধার
অবশেষে শনিবার (২ মে) পুবাইল এলাকার পদহারা বাইত এলাকা থেকে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অপহরণের মূল হোতা লামীন ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ জানান, “ঘটনার পর থেকেই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালিয়েছি। প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।”

অপহরণের পেছনের কারণ কী
পুলিশ জানিয়েছে, অপহরণের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল তা এখনো নিশ্চিত নয়। এটি ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রেমঘটিত বিষয় নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করা হয়েছে- সব দিকই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী বর্তমানে পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ