ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬ , ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের পাশে দাঁড়ালো যুক্তরাষ্ট্রের 'মিত্র' পাকিস্তান

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০২-০৫-২০২৬ ০২:৩৮:৫১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০২-০৫-২০২৬ ০৩:২১:৫০ অপরাহ্ন
ইরানের পাশে দাঁড়ালো যুক্তরাষ্ট্রের 'মিত্র' পাকিস্তান ​ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হয়েও ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। দেশটি ইরানগামী পণ্যের জন্য ছয়টি স্থলপথ ট্রানজিট রুট চালু করেছে, যার মাধ্যমে তাদের ভূখণ্ড দিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক সড়ক করিডর গঠন করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের অবরোধের কারণে ইরানের বন্দরগুলো এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো বাধাগ্রস্ত হওয়ায় করাচি বন্দরে হাজার হাজার কনটেইনার আটকা পড়েছে। এরপরই এমন সিদ্ধান্ত নিলো পাকিস্তান।

কন্টেইনারের এই জট খুলতে পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২৫ এপ্রিল ‘ট্রানজিট অব গুডস থ্রু টেরিটরি অব পাকিস্তান অর্ডার ২০২৬’ জারি করে। এই আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়। এতে তৃতীয় দেশ থেকে আসা পণ্য পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে সড়কপথে ইরানে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এই ছয়টি রুট পাকিস্তানের প্রধান প্রধান বন্দর যেমন করাচি, পোর্ট কাসিম ও গোয়াদরকে ইরানের গাবদ ও তাফতান সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই রুটগুলো বেলুচিস্তানের তুরবত, পাঞ্জগুর, খুজদার, কোয়েটা ও দালবান্দিনের মধ্য দিয়ে গেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে ছোট রুটটি হলো গোয়াদর-গাবদ করিডোর।

এই পথে ইরানের সীমান্তে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা। করাচি থেকে ইরান সীমান্তে পৌঁছাতে সাধারণত ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা লাগে। রুটের গোয়াদর-গাবদ রুটে পরিবহন খরচ করাচি থেকে তুলনায় ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ কমে আসবে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান। এবার ইরানের পাশে দাঁড়াল ইসলামাবাদ।

এ পদক্ষেপকে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অর্থনীতির জন্য এক বড় ধরনের স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে চাপে রাখার যে চেষ্টা করছে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ কি সেই চেষ্টাকে দুর্বল করে দেবে—উঠেছে সেই প্রশ্ন। এ ছাড়া যুদ্ধ বন্ধে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনাতেই বা এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে আঞ্চলিক অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের এ সিদ্ধান্ত দুই দেশের বাণিজ্য সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান তেহরানকে এই সুবিধা দেওয়ায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কে নতুন কোনো টানাপোড়েন তৈরি হয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সূত্র: আল–জাজিরা

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ