ঢাকা , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​ঢাকা বার নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনসিপির

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০১-০৫-২০২৬ ০৮:৩৭:০১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০১-০৫-২০২৬ ০৮:৩৭:০১ অপরাহ্ন
​ঢাকা বার নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনসিপির
ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আইনি সেল ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স। জামায়াতের সঙ্গে জোট করে ঢাকা বার নির্বাচনে এবার সবুজ প্যানেলে নির্বাচন করে এনসিপি।

শুক্রবার (১ মে) এনসিপির ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স অ্যালায়েন্সের মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে পূর্বপরিকল্পিত অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠন থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে ছিল, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহার করে এই কারচুপি করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, ভোটগ্রহণ চলাকালে জাল ভোট প্রদান, বুথের ভেতরে প্রবেশ করে ভোটারদের ব্যালটে জোরপূর্বক সিল মারা, বিরোধী প্যানেলের কমিশনার ও এজেন্টদের বের করে দেওয়া, যাচাই বাচাই ছাড়াই ব্যালট বিতরণ এবং বহু ভোটারের ভোট আগেই জালিয়াতির মাধ্যমে প্রদান করার মতো গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ভোট ডাকাতির সামগ্রিক চিত্র, যা অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের কালো অধ্যায়েরই পুনরাবৃত্তি।

ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স বলছে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো যে নীল প্যানেল অতীতে স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে বিভিন্ন অনিয়ম, কারচুপি ও দমন-পীড়নের শিকার হয়েছিল, তারাই আজ একই কায়দায় নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সংগঠনটি আরও বলছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের অন্যতম মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। কিন্তু এ ধরনের প্রহসনের নির্বাচন জুলাই বিপ্লবের শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি ছাড়া কিছুই না।

এ সময় ভোট কারচুপির জন্য বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলকে দায়ী করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপির এই সংগঠনটি জানায়, জাল ভোট, বুথ টেম্পারিং এবং বিরোধী এজেন্টদের বের করে দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

একই সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং আইনজীবী সমাজের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ থাকে।

এর আগে গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল দেশের বৃহত্তম বার ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষ হয়। এ নির্বাচনে মোট ভোটার ২০ হাজার ৭৮৫ জন আইনজীবী। দুই দিনে ৭ হাজার ৬৯ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা মোট ভোটারের ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ ভোট দেননি ৬৬ শতাংশ আইনজীবী।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ