মার্কিন পাসপোর্টে নিজের ছবি বসাচ্ছেন ট্রাম্প
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৯-০৪-২০২৬ ০৪:০৬:৫৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৯-০৪-২০২৬ ০৪:০৬:৫৯ অপরাহ্ন
স্মারক পাসপোর্টটিতে এ ছবিগুলো যুক্ত হতে যাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তিতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। এ বছর গ্রীষ্মকাল থেকে বাজারে আসছে সীমিত সংস্করণের বিশেষ পাসপোর্ট, যার ভেতরের প্রচ্ছদে বড় আকারে দেখা যাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি।
রাজতন্ত্র থেকে মুক্তির ২৫০ বছর পূর্তিতে একজন নেতার ছবি পাসপোর্টে জুড়ে দেওয়ার এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনযায়ী, এই কার্যক্রম শুরু হলে পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারী ‘যেকোনো মার্কিন নাগরিকের’ জন্য নতুন নকশার পাসপোর্টগুলো পাওয়া যাবে। পাসপোর্টগুলো শুধুমাত্র ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সিতেই পাওয়া যাবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, এই বিশেষ পাসপোর্টে ‘কাস্টমাইজড আর্টওয়ার্ক’ এবং ‘উন্নত ইমেজিং’ ব্যবহার করা হয়েছে।
পাসপোর্টের ভেতরের কভারে থাকবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি বড় ছবি। ছবির চারপাশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের লেখা, জাতীয় পতাকা এবং সোনালি রঙে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর যুক্ত করা হবে।
এই পাসপোর্ট মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা২৫০’ কর্মসূচির অংশ। এই উদযাপনের তালিকায় আরও রয়েছে ন্যাশনাল মলে ‘গ্র্যান্ড প্রিক্স’ রেস এবং হোয়াইট হাউজের লনে ‘ইউএফসি’ লড়াইয়ের মতো আয়োজন।
সমালোচকদের অভিযোগ, এটি রাষ্ট্রীয় নথিতে ব্যক্তিপূজার এক নতুন উদাহরণ। কারণ এর আগেও বিভিন্ন সরকারি ভবন ও নথিতে ট্রাম্পের ছবি ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। উদাহরণ হিসেবে, ওয়াশিংটনের বিচার বিভাগ ভবনসহ কয়েকটি দপ্তরে তার বড় ছবি টানানো হয়েছে।
কৃষি বিভাগে আব্রাহাম লিংকনের ছবির পাশে ট্রাম্পের ছবি বসানো হয়েছে। ২০২৬ সালের ন্যাশনাল পার্ক পাসেও জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে ট্রাম্পের ছবি যুক্ত করা হয়েছে। তবে দর্শনার্থীরা স্টিকার দিয়ে ট্রাম্পের মুখ ঢেকে প্রতিবাদ করায় পার্ক সার্ভিস পাস বিকৃত করার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করেছে।
এমনকি নতুন মুদ্রার নকশাতেও ট্রাম্পের ছবি ব্যবহারের প্রস্তাব এসেছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, ওয়াশিংটনে ২৫০ ফুট উঁচু একটি বিশাল স্বর্ণালী বিজয় তোরণ নির্মাণের প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যাকে প্রশাসনিকভাবে ‘আর্ক দ্য ট্রাম্প’ বলা হচ্ছে। এটি উচ্চতায় ইউএস ক্যাপিটল এবং লিংকন মেমোরিয়ালকেও ছাড়িয়ে যাবে। জনসমর্থন নেতিবাচক হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্পের মিত্রদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্যানেল এই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে।
সমালোচকরা এই পদক্ষেপগুলোকে ‘আমেরিকান আইকনিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ব্যক্তি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা’ হিসেবে দেখছেন। তবে প্রশাসনের দাবি, এটি ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখার একটি বিশেষ মাধ্যম।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স