১৭৩৩ হেক্টর ফসলের ক্ষতি
দুইদিনের টানা ঝড়ে লন্ডভন্ড কুমিল্লা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৯-০৪-২০২৬ ০৩:০৮:০৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৯-০৪-২০২৬ ০৩:৩০:২৩ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
চলমান কালবৈশাখি ঝড়ের কবলে দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় জেলা কুমিল্লায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কয়েকদিনের টানা ঝড় আর বৃষ্টিতে বিপর্যয় নেমে এসেছে এ জেলার জনজীবনে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) পর্যন্ত টানা ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে কুমিল্লায়। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বুধবার সকালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬.২ মিলিমটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা মঙ্গলবারের তুলনায় অনেকটা কম। তবে মাত্রা কম থাকলেও কুমিল্লায় বুধবার সকাল থেকে একটানা বৃষ্টি ও হালকা ঝড়ো হাওয়া বইছে।
এদিকে টানা ঝড়-বৃষ্টির ফলে জেলার ১৭টি উপজেলার কৃষি ও বিদ্যুতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৭ উপজেলার মোট ১ হাজার ৭৩৩ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে ভুট্টা ৫৫০ হেক্টর, গ্রীষ্মকালীন সবজি ৩৬৪ হেক্টর এবং ৯১ হেক্টর তিলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলাজুড়ে ১ লাখ ৭২ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে বুরো ধান চাষাবাদ হলেও তারমধ্যে ২৩ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। বেশিরভাগ ধান পেকে যাওয়ায় চলমান কালবৈশাখী ঝড়ে ধানে তেমন ক্ষতি দেখছে না কৃষি অফিস।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, বৃষ্টিতে ধানের তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে বৃষ্টির পানি যদি বেশ কিছুদিন আটকে থাকে তাহলে পঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা আশা করছি এই ঝড়বৃষ্টি বেশিদিন থাকবে না। কৃষকদের সবসময় আমরা অনুরোধ করি ধান যদি ৮০ ভাগ পেকে যায় তাহলে কেটে ফেলার জন্য। কিন্তু কৃষকরা শতভাগ পাকার জন্য অপেক্ষা করেন আর প্রতিবছর ঝড়বৃষ্টির মুখে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
অপরদিকে বিদ্যুতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার ১৭টি উপজেলা। ঝড়ে গাছপালা পড়ে শতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। নষ্ট হয়েছে অর্ধশতাধিক ট্রান্সমিটার। প্রায় দেড় হাজার স্থানে সংযোগের ওপর গাছ পড়েছে। ফলে বেশিরভাগ এলাকা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎহীন পড়ে আছে।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান বলেন, গত রোববারের ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর পুনরার সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার আবার ঝড় শুরু হলে পুনরায় ক্ষয়ক্ষতি হয়। বেশিরভাগ গ্রামীণ অঞ্চলেই বৈদ্যুতিক তারের ওপর গাছ পড়েছে, খুঁটি ভেঙেছে, ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। এগুলো মেরামতে সময় লাগবে। আমাদের জনবলে সংকীর্ণতা আছে।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বায়ুচাপের তারতম্যে আধিক্য রয়েছে। এটি সাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রাথমিক স্তর বা লক্ষ্মণ। নদীবন্দর সমূহে ৩ নম্বর সতর্কতা চলছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা এই ঝড়বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। সাথে বজ্র, বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে।
কুমিল্লা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, মঙ্গলবারের তুলনায় আজ বুধবার বৃষ্টিপাত কম। গতকাল বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৬৫ কিলোমিটার ছিল। আজ সেটি উল্লেখযোগ্য নয়। তবে পূর্বাভাস যেহেতু থাকছে তাই ঝড়বৃষ্টিতে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হলেই ভালো হয়। ইতোমধ্যেই সারাদেশে বজ্রপাতে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে মঙ্গলবারের টানা ঝড়-বৃষ্টির ফলে কুমিল্লা নগরীর বেশিরভাগ সড়ক, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন নগরীর লাখো বাসিন্দা। ড্রেনেজ ব্যবস্থায় অনিয়ম আর খাল ও নালায় ময়লার স্তুপের ফলে পানির নিষ্কাশন না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবারের ঝড়বৃষ্টিতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চার্জার লাইট ও মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে কিছু কিছু কেন্দ্রে। আবার কিছু কিছু কেন্দ্রে শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করায় সেই পানিতে বসেই পরীক্ষা দিতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, গত ১৪ বছরে উন্নয়নের নামে শুধু লুটপাট হয়েছে। আমি গত মাসে দায়িত্ব নিয়েছি। ইতোমধ্যে রেসকোর্স এবং কান্দির পাড় খাল ও নালায় আটকে থাকা ময়লা পরিষ্কার করেছি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে। আজও সেই কাজ চলমান রয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স