ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ , ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজে আটকেপড়া নাবিকদের করুণ আর্তনাদ

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২৮-০৪-২০২৬ ১০:৫১:৫১ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ২৮-০৪-২০২৬ ১০:৫১:৫১ পূর্বাহ্ন
হরমুজে আটকেপড়া নাবিকদের করুণ আর্তনাদ ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বন্ধ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। এতে বিপাকে পড়েছেন হাজারো নাবিক। ট্যাংকার মালিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারট্যাংকো জানিয়েছে, বর্তমানে ১০৫টির বেশি ট্যাংকারে প্রায় দুই হাজার ৪০০ নাবিক আটকে আছেন। খাবারের সংকট আর মৃত্যুভয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা। ঘরে ফেরার প্রহর গুনছেন। তবে প্রিয়জনের কাছে আর ফেরা হবে কিনা, সেই নিশ্চয়তাও নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নাবিক বলেছেন, ‘আমরা আটকা পড়েছি, যেন কারাগারে আছি, আমরা শুধু বাড়ি ফিরতে চাই, যা এ মুহূর্তে সম্ভব নয়।’

ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ববাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এর অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব ফেলছে। 

বিবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে ইন্টারট্যাংকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিম উইলকিন্স বলেন, ইরানের উপকূলসংলগ্ন এলাকায় বহু জাহাজ ও নাবিক আটকে রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজে অবস্থান করায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও ক্লান্তি বাড়ছে। 

তিনি জানান, আটকে পড়া নাবিকদের খাবার, পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো মৌলিক বিষয়গুলোও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই জানেন না, কবে তারা ঘরে ফিরতে পারবেন। একজন নাবিক এবিসি নিউজকে বলেন, ‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় ৫০ দিন হয়ে গেছে, আমাদের সবচেয়ে বড় ভয় হলো অনিশ্চয়তা। আমরা জীবিত অবস্থায় বাড়ি ফিরতে পারব কিনা তা জানি না। কারণ এখানে কোনো নিরাপদ জায়গা নেই।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘সরু ও ঘেরা এই জলপথ ক্রুদের মধ্যে ভয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ড্রোন, মানববিহীন যান এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ভয় রয়েছে। আমাদের মাথার ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র যাচ্ছে। যে কোনো সময় আছড়ে পড়তে পারে। আমি নিজের চোখে জাহাজে আঘাত করতে দেখেছি।’ 

আরেকজন নাবিক দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, তিনি নোটিশ দিয়ে দিয়েছেন এবং এই প্রণালি দিয়ে যাত্রা করতে রাজি নন। 

ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশন (আইটিএফ) জানিয়েছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তারা শত শত জাহাজের নাবিকদের কাছ থেকে প্রায় এক হাজার ৯০০টি অনুরোধ পেয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ ছিল দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ, বাকিগুলো জ্বালানি, খাবার ও পানির সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ। আইটিএফ আরও জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত এই অঞ্চল থেকে ৪৫০ জন নাবিককে দেশে ফেরত পাঠাতে সাহায্য করেছে।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এতে প্রাথমিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা পরের ধাপের জন্য তুলে রাখা হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত দুই সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে পারমাণবিক আলোচনা পরবর্তী ধাপের জন্য স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ