রাজধানীর বিদ্যুৎ বিতরণী সংস্থা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার জিটুজি প্রকল্পের দুর্নীতি অনুসন্ধানে ফের তৎপর হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় নথিপত্র তলব করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী স্বাক্ষরিত চিঠিতে আগামী ৫ মের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। ঠিকাদারের সাথে চুক্তিপত্র ও ক্রয় সংক্রান্তসহ মোট ৭ ধরনের নথিপত্র তলব করেছে কমিশন।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ বাণিজ্য এবং ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়মের মাধ্যমে এই প্রকল্পে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিশেষ করে, ডিপিডিসি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নামমাত্র কাজ করে প্রকল্পের অর্থ পাচারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে, ২০২৫ সালে জিটুজি প্রকল্পের দুর্নীতি অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত দল গঠন করেছিল দুদক। ওই বছরের ৫ মে দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ডিপিডিসিকে তিনটি প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট সব দরপত্র, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, বিল, চুক্তি ও চালানপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
এদিকে, জিটুজি প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য ১৪০ সেট ১৩২ কেভি ক্যাবল এক্সেসরিজ (ক্রস বন্ডিং জয়েন্ট) জার্মানি থেকে না এনে চীন থেকে আমদানি করার অভিযোগ উঠলে বিদ্যুৎ বিভাগ তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. সবুর হোসেন অভিযুক্তদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং নথিপত্র পর্যালোচনার পর ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে ডিপিডিসির অনেক কর্মকর্তাকেই দায়ী করা হয়েছিল। বিদ্যুৎ বিভাগ দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিলেও ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
এর মধ্যেই দুদক থেকে নতুন করে চিঠি পেল ডিপিডিসি।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে
কেনাকাটায় অনিয়ম করে ১০০ কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারা
দুদকের জালে ফেঁসে যাচ্ছে ডিপিডিসি