তনু হত্যার ১০ বছর পর এক আসামি গ্রেপ্তার
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২২-০৪-২০২৬ ০৭:৩৬:৫৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২২-০৪-২০২৬ ০৮:০১:২৫ অপরাহ্ন
সোহাগী জাহান তনু। ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের ১০ বছর পর এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তার নাম হাফিজুর রহমান। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে তাকে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন কুমিল্লা সদর আমলী আদালত-১-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক। এর আগে পিবিআই গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, হাফিজুর রহমানকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে কুমিল্লা আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এরপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এর আগে চলতি মাসের ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার অনুমতি চান। তারা হলেন, সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলম।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০টি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত এক দশকে চারটি সংস্থার অধীনে সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
এদিকে, শুনানির সময় নিহত তনুর বাবা-মা এবং তার ছোট ভাই রুবেল হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। খোঁজাখুঁজির পর সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়।
পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।
সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, “মেয়ে হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পার হয়েছে। মরার আগে নতুন সরকারের কাছে মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।”
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স