ঢাকা , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ , ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরাঞ্চলে বাম্পার ফলনেও হাসি নেই

পেঁয়াজ-মরিচে লোকসানে কৃষক

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৮-০৪-২০২৬ ০২:৩২:২১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৮-০৪-২০২৬ ০২:৩২:২১ অপরাহ্ন
পেঁয়াজ-মরিচে লোকসানে কৃষক ফোকাস বাংলা নিউজ
কুড়িগ্রামে তিস্তার চরাঞ্চলে মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের বাম্পার ফলন হলেও শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলায় ৩ হাজার ৫৬৩ জন কৃষকের প্রায় ৮ কোটি ১৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ভুট্টা, চিনা, শাকসবজি, মরিচ ও কালোজিরা। এর মধ্যে মরিচ চাষিরা বেশি বিপাকে পড়েছেন। বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মরিচ বাজারে নিয়ে আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না তারা। ফলে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়েই হিমশিম খাচ্ছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা।ফলে তিস্তার চরাঞ্চলের কৃষকদের মুখে এখন হতাশার ছাপ দেখা যায়।  

ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ভুট্টা, চিনা, শাকসবজি, মরিচ, পেঁয়াজ ও কালোজিরা। এর মধ্যে মরিচ ও পেঁয়াজ চাষিরাই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতির পাশাপাশি বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তা চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, মাইলের পর মাইল সবুজ ফসলের সমারোহ। বাদাম, চিনা, তিল, তিশি, পেঁয়াজ ও মরিচ ক্ষেতে ভরে আছে চরের বুক। তবে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র।

চর গতিয়াসাম এলাকার কৃষক আব্দুল আজিজ (৭২) জানান, ধার-দেনা করে ১২ হাজার টাকা খরচ করে ৯ শতক জমিতে মরিচ চাষ করেছি। এখনো খরচই ওঠেনি। তার ওপর শিলাবৃষ্টি ও বৃষ্টিতে অনেক গাছ পচে গেছে।
তার স্ত্রী আনোয়ার বেগম (৫০) বলেন, মরিচ বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারের অনেক পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাজারে দাম কম থাকায় বড় ধরনের লোকসান গুনছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮১৫ হেক্টর জমিতে মরিচ ও পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অনেক কৃষক ভালো দাম পেয়েছিলেন। তবে অতিবৃষ্টির আশঙ্কায় একযোগে অপরিপক্ব মরিচ বাজারে তোলায় হঠাৎ দরপতন ঘটে।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফন্নাহার সাথী বলেন, তিস্তার চরে মরিচসহ অন্যান্য ফসলের ফলন ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছু ক্ষতি হলেও কৃষকরা তাদের পরিশ্রম দিয়ে তা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছি।

এবিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চলতি মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে ২৮ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও শিলাঝড়ে ৫১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে ২৯৬ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩ হাজার ২২ দশমিক ৮২ মেট্রিক টন ফসল কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ