ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ , ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে সুখবর

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৬-০৪-২০২৬ ০৮:৪৬:২১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৪-২০২৬ ০৮:৪৬:২১ অপরাহ্ন
​রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে সুখবর ​ছবি: সংগৃহীত
নানা বাধা-বিপত্তি পর অবশেষে রূপপুর পারমাণবিকে জ্বালানি লোডিংয়ের কার্যক্রম লাইসেন্সের জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে। এতে করে চলতি এপ্রিলের শেষের দিকে রূপপুর পারমাণবিকের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এর আগে ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলেও কিছু ক্রিটিক্যাল ইস্যু সামনে আসে। সেগুলো সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হয়। এই প্রকল্প চালু না হওয়ায় দেশের ক্ষতি হচ্ছে এটাও চিন্তা করি। বিপুল এই জনসংখ্যার দেশে যদি কোনো অঘটন ঘটে সেই জন্য সেসময় প্রকল্পে ফুয়েল লোডিংয়ের বিষয়ে রাজি হইনি। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য-আমরা সততার সঙ্গে জোরালো চেষ্টা করছি। এখন পজিশন ভালো। সেই জন্য ফুয়েল লোডিংয়ের বিষয়ে আমরা এখন সবাই একমত।’

সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য জানিয়ে মাহমুদুল হাসান আরও বলেন, ‘প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের সময় আমি সশরীরে উপস্থিত থাকবো। প্রয়োজনে সারা রাত জেগে দাঁড়িয়ে থাকব। আমি আশা করি দুর্ঘটনার কোন সম্ভাবনা নেই। যদি কোনো ভুলের (error) জন্য অঘটন ঘটে। তাহলে আমি প্রথম জীবন দিব।’

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান বৃহস্পতিবার জানান, অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত এনওসি (অনাপত্তিপত্র) পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ তথা জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত এর আগে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স না দেওয়ায় চলতি মাসের ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। ঢাকার নভোথিয়েটার থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভার্চুয়ালি জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধনের কথা ছিল। উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও পরে তা স্থগিত হয়ে পড়ে।

এর আগেও একাধিকবার উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি দেশে আনা হলেও তা এখনো ব্যবহার করা যায়নি।

জ্বালানি লোডিংয়ের আগে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সি’র তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। জ্বালানি লোডিংয়ের লাইসেন্স পাওয়ার আগে দুই দেশের (বাংলাদেশ ও রাশিয়া) সরকার প্রধানের সময় নিয়ে উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করায় এসময় অস্বস্তিতে পড়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎস হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে নির্মিত এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা)। ২০১৩ সালে চুক্তি স্বাক্ষর এবং ২০১৫ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ চলমান, যা আগামী বছরের শেষ নাগাদ শেষ হতে পারে। পুরো প্রকল্প ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে, প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। সূত্র: ইত্তেফাক

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ