পাম্পের কর্মী দিয়ে বিমানের রিফুয়েলিং!
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১২-০৪-২০২৬ ০৩:৩৮:০২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১২-০৪-২০২৬ ০৩:৩৮:০২ অপরাহ্ন
বিমানের রিফুয়েলিং। ছবি: সংগৃহীত
ফুয়েল স্টেশন ও পাম্পের কর্মী দিয়ে চলছে বিমানের ফুয়েল-রিফুয়েলিং। এভিয়েশন রিফুয়েলিংয়ের অভিজ্ঞতা ছাড়া কীভাবে পদ্মা অয়েল পিএলসিতে তারা নিয়োগপ্রাপ্ত হলো? যেখানে বিগত বছরগুলোতে নিয়োগ দেয়া হতো এভিয়েশন রিফুয়েলিংয়ে অভিজ্ঞদের; সেখানে এসব নিয়োগ ও এভিয়েশন খাতকে হুমকির মুখে ফেলার দায়ে অভিযোগ উঠেছে পদ্মা অয়েলের মহাব্যবস্থাপক মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে।
গেল বছরের শেষ দিকে এক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পদ্মা ওয়েল পিএলসি। যেখানে এটেন্ডেন্ট ফুয়েলিং পদে সংশ্লিষ্ট কাজে ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসহ এভিয়েশন রিফুয়েলিং এ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
সেই পদে ১৮০০ এর বেশি পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ১৪জনকে চলতি বছরের শুরুর দিকে নিয়োগ দেয় পদ্মা ওয়েল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে তাদের কারোই নেই বাস্তব এভিয়েশন রিফুয়েলিংয়ের অভিজ্ঞতা। এমনকি নথিতে দেখা যায়, নিয়োগের সময় যে অভিজ্ঞতার সনদ নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা জমা দিয়েছেন তার সঙ্গেও মিল নেই এটেন্ডেন্ট ফুয়েলিং পদের।
নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা জানান, এর আগে তারা ছিলো এএসএম ক্যামিকেলে, বসুন্ধরা ক্যামিকেলে। সার্কুলারে অয়েল রিলেটেড কাজের জন্য বলা হয়েছিলো আর সে কাগজপত্র জমা দিয়েই তারা নিয়োগ পেয়েছেন।
এই বিজ্ঞপ্তি আরও বেশি ধোঁয়াশা ছড়িয়েছে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে এভিয়েশন ফুয়েলিং এ কর্মরত থাকা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কেউ সুযোগ না পাওয়ায়। প্রশ্ন ফাঁস, পরীক্ষার সময় কমানো, তড়িঘড়ি করে ফল প্রকাশের মতো বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে ভুক্তভোগীদের।
এভিয়েশন ফুয়েলিং এ কর্মরত কয়েকজন কর্মী জানান, এসব নিয়ে কথা বললে চাকরি থাকবে না। নতুন নিয়োগ পাওয়াদের কাজ আমাদের শেখাতে হচ্ছে। অথচ এরা নাকি ১০ বছরের অভিজ্ঞ। পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিলো দেড় ঘণ্টা। কিন্তু পরীক্ষা হয়েছে ৪৫ মিনিট এবং লিখিত হয়েছে সম্পূর্ণ।
এ বিষয়ে যার দিকে সকল অভিযোগের তীর সেই পদ্মা ওয়েল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান সব দায় চাপান নিয়োগ কমিটির উপর।
তিনি বলেন, ‘নিয়োগ কীভাবে হবে এবং কোন প্রসিডিওরে হবে এটাও কিন্তু নিয়োগ বিধিমালায় সব লিখা আছে। পুরো প্রক্রিয়াটাই একটা নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়। উনারা ফাইনাল সিলেকশন করে দেয়ার পরে আমরা শুধু উনাদের নিয়োগপত্র সাবমিট করি। এটা আমার ব্যক্তিগত কাজ। এছাড়া পুরো কাজ করে নিয়োগ কমিটি।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, আকাশপথের যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি দক্ষ জনবলের মাধ্যমে বিমানে ফুয়েল-রিফুয়েলিংয়ের ওপর বহুলাংশে নির্ভর করে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অনভিজ্ঞ লোক নিয়োগ এই খাতকে আরও বেশি ঝুঁকিতে ফেলছে।
বিমান বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদ উল আলম বলেন, ‘ফুয়েল এটেন্ডেন্ট টেকনিক্যাল একটা জব। এটার জন্য তো অভিজ্ঞতা মাস্ট। বিশেষ করে এয়ারপোর্টের মতো একটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, নাজুক জায়গা। এখানে যেকোনো ধরনের অসাবধানতা যেকোনো ধরনের বড় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। সেখানে আরও বিশেষ করে ফুয়েল নিয়ে ব্যবস্থাপনা।’
এছাড়াও তারা মনে করেন যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা এই খাতকে করে তুলতে পারে অস্থিতিশীল। সূত্র: এখন টেলিভিশন
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স