ঢাকা , শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ , ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অটোরিকশার অবৈধ চার্জিং: বাড়ছে বিদ্যুতের অপচয়

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১০-০৪-২০২৬ ০২:৫৭:১৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১০-০৪-২০২৬ ০৫:৩২:৩২ অপরাহ্ন
অটোরিকশার অবৈধ চার্জিং: বাড়ছে বিদ্যুতের অপচয় ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাবে বাংলাদেশের পাম্পগুলোতে এখন তেলের জন্য মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন। তেলের এই সংকটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অফিস-আদালতের সময় কমানো হলেও রাজধানীর সড়কে সয়লাব প্রায় ১৫ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। সারাদেশে এর সংখ্যা ৪০ লাখের উপর ছাড়িয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশ অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। যার ফলে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব এবং অধিক পরিমাণে ব্যাটারি চার্জিংয়ের ফলে বাড়ছে বিদ্যুতের অপচয়।

কয়েকজন অটোরিকশাচালক জানান, আমরা গরিব মানুষ, আর কী করে খাব? এটি ছাড়া আর কোনো কর্ম আমরা শিখিওনি, জানিও না। আমরা জানি এটা অবৈধ। এখন কী করব? পেটের দায়ে করছি।  প্রতিটি অটোরিকশা দৈনিক বিদ্যুৎ খরচ করে গড়ে ৬ থেকে ৯ ইউনিট। সেই হিসেবে প্রতিদিন সারাদেশে প্রায় ২৪ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে এই খাতে। মাসে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭২০ গিগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি। এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিদিন যে হাজার হাজার টন আমদানিকৃত ফার্নেস অয়েল ও গ্যাস পুড়ছে তার বড় অংশই অপচয় হচ্ছে অবৈধ চার্জিং সিন্ডিকেটের কারণে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, কামরাঙ্গীরচর, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, মুগদা, মানিকনগর, বাড্ডা, উত্তরা আজমপুর, দক্ষিণখান সহ বেশ কয়েকটি রিকশার গ্যারেজ ঘুরে দেখা যায়, অবৈধভাবে চলছে বৈদ্যুতিক চার্জের ব্যবস্থা। এক মিটারেই চার্জ দেয়া হচ্ছে কয়েকটি গ্যারেজের রিকশা। কোথাও আবার সরাসরি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে নেয়া হয়েছে অবৈধ সংযোগ। আর এই অবৈধ সংযোগে রয়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।  অন্যদিকে, এসব গ্যারেজ টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় নেতাদের মাসে বড় একটা চাঁদা দেয়ার কথাও স্বীকার করছেন মালিকরা। এই অবৈধ সংযোগগুলোতে রয়েছে স্থানীয় বিদ্যুত অফিসের অসৎ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সংশ্লিষ্টতা। যারা মাসওয়ারা হিসেবে টাকা পয়সা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে রাজধানীর বিদ্যুত বিতরনী কোম্পানির্ শীর্ষ দুই প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান- ৫ ই আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এই অবৈধ সংযোগগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানে ভাটা ছিলো। সেই সাথে রয়েছে বিদ্যুত বিতরনী কোম্পানিগুলোতে লোকবল ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশের অভাব। সে কারণে এর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারিনি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান সংকটে ক্রমেই চাপ বাড়বে বিদ্যুতের ওপর। তবে অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে এর চার্জিং পদ্ধতি একটি শৃঙ্খলায় আনার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। 

এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বাংলাস্কুপকে বলেন, রাজধানীর বিদ্যুৎ বিতরনী কোম্পানি ডিপিডিসি-ডেসকো এই অবৈধ সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করে তাদেরকে মিটারের মাধ্যমে বৈধতা দিতে পারত। এতে করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে এ টাকাগুলো আসতো। আর সেই সাথে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমতো। কিন্তু তারা এগুলো ঠিকভাবে করছেন না।  তিনি আরও বলেন,  ৫আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে এই অবৈধ সংযোগগুলো আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে কঠোর তদারকি করতে হবে।  অন্যথায় এর সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। 

বাংলাস্কুপ/ প্রতিবেদক/এনআইএন
 
 
 
 
 
 
 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ