মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে জবাই করা ১৩টি ঘোড়া উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকালে স্থানীয় জনতা ধাওয়া করলে জবাই করা ঘোড়াগুলো ফেলে পালিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা। ধারণা করা হচ্ছে, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে ঘোড়ার মাংসকে গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় সরবরাহ করে আসছিল। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে উপজেলার আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের পেছনের একটি পরিত্যক্ত ঘরে এই অভিযান চালানো হয়। সেখানে ১৩টি ঘোড়ার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। সে সময় জবাইয়ের অপেক্ষায় থাকা একটি জীবন্ত ঘোড়াও উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের অনুমান, উদ্ধার করা ঘোড়াগুলো থেকে কমপক্ষে ৩০ মণ মাংস সংগ্রহ করার পরিকল্পনা ছিল চক্রটির।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল মিয়াজী জানান, প্রায় ছয় মাস ধরে ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে রহস্যময় গতিবিধি লক্ষ করা যাচ্ছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় গ্রামবাসী সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। বুধবার ভোরে গ্রামবাসী একত্র হয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে চক্রটি পালিয়ে যায়। সে সময় স্থানীয়রা তিতাস ও রাজিব নামে দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল হোসেন জানান, প্রতি রবিবার ও বুধবার গভীর রাতে এই পরিত্যক্ত ঘরের সামনে গাড়ি আসতো। পরদিন সকালে সেখানে রক্ত ও হাড় পড়ে থাকতে দেখা যেত। পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, চক্রটি ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস বস্তায় ভরে গরুর মাংস হিসেবে বাজারে সরবরাহ করতো। প্রমাণ মুছে ফেলতে তারা চামড়া ও নাড়িভুড়ি গর্ত করে পুঁতে ফেলতো। গজারিয়া থানার ওসি হাসান আলী বলেন, ‘সংবাদ পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে অপরাধীরা আগেভাগেই পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১১ অনুযায়ী ঘোড়া জবাই করার কোনও বিধান নেই। ঘটনাস্থলে অপরাধীদের না পাওয়ায় তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি; পুলিশকে নিয়মিত মামলা ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা এই অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন