ঢাকা , সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ , ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সাড়ে ৫ বছর হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইন হয়নি, দায় ফ্যাসিস্ট ও অন্তর্বর্তী সরকারের

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০৬:৫০:১৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০৬:৫০:১৯ অপরাহ্ন
সাড়ে ৫ বছর হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইন হয়নি, দায় ফ্যাসিস্ট ও অন্তর্বর্তী সরকারের ​ছবি: সংগৃহীত
দেশে বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি ও টিকার সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে আগের সরকারগুলোর কড়া সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। 

তিনি জানিয়েছেন, গত সাড়ে পাঁচ বছর হাম-রুবেলার কোনো ক্যাম্পেইন না হওয়ায় এবং টিকার মজুতে অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমানে শিশুরা প্রাণ ঝুঁকিতে পড়েছে। তবে বর্তমান সরকার জরুরি ভিত্তিতে রোববার থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পূর্ণ ভুল ব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার কারণে বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। দেশে সর্বশেষ হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইন ২০২০ সালের ডিসেম্বরে হয়। এরপর দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর কোনো ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়নি।  

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের করা জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। 

আখতার হোসেন দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের প্রাদুর্ভাব, আইসোলেশন ও আইসিইউ সুবিধার অভাব এবং ৬ মাস বয়সেই শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ক্যাম্পেইন না হওয়া ও টিকার সংকটের কারণ উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতি চার বছর পরপর হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও গত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে কোনো ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকাদান থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমানে তাদের মধ্যেই হামের প্রাদুর্ভাব বেশি। এছাড়া পূর্ববর্তী সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়, যার ফলে হামসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ টিকার মজুতে মারাত্মক সংকট দেখা দেয়।

জরুরি টিকাদান কর্মসূচি ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান শুরু হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দিনেই ৩০টি উপজেলায় ৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে (সাফল্য ৯৬ শতাংশ)। এছাড়া আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং ৩ মে থেকে সারাদেশে অবশিষ্ট এলাকায় কর্মসূচি শুরু হবে।

হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মন্ত্রী জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহীতে আরও ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর প্রস্তুতির পাশাপাশি আইসিডিডিআরবি,র মাধ্যমে মাত্র ৩০০ টাকা ব্যয়ে উদ্ভাবিত নতুন অক্সিজেন প্রবাহ সিস্টেম ব্যবহার করে ফুসফুসে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ