৫৫ লাখ পরিবার পাচ্ছে ১৫ টাকায় চাল: সংসদে খাদ্যমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৫-০৪-২০২৬ ০৬:৫২:২৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৫-০৪-২০২৬ ০৬:৫৩:১৪ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে বড় পরিসরে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সরকার। বর্তমানে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৪৯৫টি উপজেলায় ৫৫ লাখ পরিবারকে মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ১০ লাখ মেট্রিক টন চালের বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান খাদ্যমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
সংসদে খাদ্যমন্ত্রী জানান, বছরে ছয় মাস— আগস্ট থেকে নভেম্বর এবং মার্চ ও এপ্রিল— এই চাল বিতরণ করা হয়। চলতি অর্থবছরের ১৯ মার্চ পর্যন্ত মোট বরাদ্দের ৭৯ দশমিক ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৭ দশমিক ৯৩ লাখ মেট্রিক টন চাল বিতরণ হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, দরিদ্র মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভিটামিন এ, বি-১, বি-১২, বি-৯ (ফলিক অ্যাসিড), আয়রন ও জিংক সমৃদ্ধ পুষ্টিচাল বিতরণ করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ২৪৮টি উপজেলায় পাঁচ মাসব্যাপী ৩ দশমিক ৭ লাখ মেট্রিক টন পুষ্টিচাল সরবরাহের কার্যক্রম চলমান।
বাজারদর নিয়ন্ত্রণে ওএমএস কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে ১২টি সিটি করপোরেশন, ১৪টি শ্রমঘন জেলা এবং ৫২টি জেলা সদরের এক হাজার ৯১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে খাদ্যশস্য বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, খোলা আটা ২৪ টাকা এবং দুই কেজির প্যাকেট আটা ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দৈনিক এক হাজার ১৮৫ মেট্রিক টন চাল ও এক হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন আটা বিক্রি হচ্ছে ওএমএসের মাধ্যমে।
এ ছাড়া চালের ঊর্ধ্বমূল্য ঠেকাতে বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় ৪১৮টি উপজেলার ৮৩৬টি কেন্দ্রে প্রতিদিন ৪০৬ মেট্রিক টন চাল ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ওএমএস খাতে ৩ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ৫ দশমিক ২৫ লাখ মেট্রিক টন গমের বাজেট রয়েছে, যার প্রায় ৭০ শতাংশ ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী ৬৭ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৭টি পরিবারকে প্রতি মাসে ৩০ টাকা কেজি দরে মোট ৩৩ হাজার ৮৩৩ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করছে খাদ্য অধিদপ্তর।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, হতদরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাজারমূল্য সহনীয় রাখতে এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স