বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন
লাখপতিদের সঞ্চয় বাড়ছে, কমছে কোটিপতিদের
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
০২-০৪-২০২৬ ০৮:৪৬:৩৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০২-০৪-২০২৬ ০৮:৪৭:১৪ অপরাহ্ন
ব্যাংক খাতে আমানত রাখার কাঠামোতে পরিবর্তন আসছে। আগে কোটিপতি বা উচ্চবিত্তদের সঞ্চয় বেশি হারে বাড়ত। লাখপতি বা মধ্যবিত্তের সঞ্চয় বাড়ত তুলনামূলক কম। গত এক বছরে এ ধারায় পরিবর্তন এসেছে। এখন কোটিপতিদের সংখ্যা বেড়েছে, তবে তাদের সঞ্চয় কমেছে। এর মধ্যে বড় অঙ্কের কোটিপতির সংখ্যা কমেছে। লাখপতির সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি তাদের সঞ্চয়ও বেড়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, কোটিপতিদের আমানত বেশি কমেছে। এর মধ্যে ৫০ কোটি টাকার ওপরে আমানত রয়েছে এমন কোটিপতিদের আমানত যেমন কমেছে, তেমনই কমেছে তাদের সংখ্যাও। একই সঙ্গে ২৫ কোটি টাকার বেশি থেকে ৫০ কোটি টাকার আমানতকারীর সংখ্যা কমার পাশাপাশি তাদের আমানত কমেছে। তবে ৫০ কোটি টাকার আমানতকারীদের চেয়ে তাদের আমানত কম কমেছে।
কোটিপতিদের আমানত কমার কারণ হিসাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজনৈতিক কারণে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের একটি অংশ দেশত্যাগ করেছেন। তারা নানাভাবে আমানত তুলে নিয়েছেন। যে কারণে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সময় আমানত তোলার ওপর সিলিং বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ে বড় আমানতকারীরা টাকা তুলে নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকে মাঝারি মানের আমানতকারীদের সংখ্যা যেমন বেশি, তেমনই তাদের আমানতও বেশি। এটি ব্যাংক খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। কারণ, এতে ব্যাংকে আমানতের ঝুঁকি কমছে।
প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত একেবারে ছোট থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই তাদের আমানতের পরিমাণও বেড়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকে একেবারে সর্বনিম্ন স্তর থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ৬০ লাখ। তাদের জমা আমানতের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ১০০ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে এ খাতের আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৪৮ লাখে। আমানত বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে এ খাতে আমানতকারীর হিসাব বেড়েছে ১ কোটি ৮৮টি। একই সময়ে আমানত বেড়েছে ১৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকে ২ লাখের বেশি থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারীদের হিসাব ছিল ৯৩ লাখ ৫২ হাজার। এসব হিসাবে জমা ছিল ৫ লাখ ২৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে এ ধরনের আমানতকারীদের হিসাব সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১১ লাখ ৪৬ হাজার। এসব হিসাবে জমা রয়েছে ৬ লাখ ৫২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এ খাতের আমানতকারীর হিসাব বেড়েছে ১৭ লাখ ৯৪ হাজারটি এবং জমা অর্থ বেড়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট আমানতের ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ এই শ্রেণির আমানতকারীদেরই ব্যাংক হিসাব মোট আমানতের অর্ধেকের বেশি রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ২৫ লাখের বেশি থেকে ৫০ লাখ টাকা আমানতকারীর হিসাব সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৮১ হাজার। তাদের জমা আমানতের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে এ খাতের আমানতকারীর হিসাব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩৫ হাজার। তাদের আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকায়। আলোচ্য সময়ে আমানতকারীর হিসাব বেড়েছে ৫৪ হাজার। জমা অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ১৯ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
৫০ লাখের বেশি থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জমা আমানতকারীর সংখ্যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ছিল ১ লাখ ৬২ হাজার। ওই সময়ে তাদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে এ খাতের আমানতকারীর হিসাব সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার। তাদের জমা অর্থের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে আমানতকারী বেড়েছে ২০ হাজার এবং জমা অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ১৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।
১ কোটি টাকার বেশি থেকে ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতকারীর হিসাব ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ছিল ৩৫ হাজার ৩৯৪টি। এসব হিসাবে জমা অর্থ ছিল ৮৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে এ খাতের আমানতকারীর হিসাব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৩১৬টিতে। এসব হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৮৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায়। আলোচ্য সময়ে আমানতকারীর হিসাব বেড়েছে ২ হাজার ৯৬৭টি এবং এর বিপরীতে জমা অর্থের পরিমাণ কমেছে ৪০০ কোটি টাকা।
২৫ কোটি টাকার বেশি থেকে ৫০ কোটি টাকার হিসাবধারী আমানতকারী ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ছিল ১৪১ জন। এসব হিসাবে জমা ছিল ৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে এ খাতের আমানতকারীদের হিসাব কমে দাঁড়িয়েছে ১০৭টিতে। জমা অর্থের পরিমাণও কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকায়। আলোচ্য সময়ে আমানতকারী কমেছে ৩৪ জন এবং জমা অর্থের পরিমাণ কমেছে ১ হাজার কোটি টাকা।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানতকারীর হিসাব সংখ্যা ছিল ৪৪টি। এতে জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে এ খাতের হিসাব সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে। এসব হিসাবে জমা অর্থ কমে হয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে আমানতকারী কমেছে ৩১ জন এবং জমা অর্থের পরিমাণ কমেছে ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এ খাতে আমানতকারী ও জমা অর্থ অস্বাভাবিক হারে কমেছে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স