দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন
ইরান যুদ্ধের কারণে তেল-শূন্য হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
০২-০৪-২০২৬ ০১:৩৭:৪০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০২-০৪-২০২৬ ০৩:০৪:৪৭ অপরাহ্ন
জ্বালানি নিতে পাম্পে যানবাহনের লাইন। ছবি : ফোকাস বাংলা নিউজ
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ ৩৩ দিনে গড়িয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে গভীর অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পর্যন্ত দীর্ঘায়িত এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে, আর এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যেই জরুরি পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।
এই সংকট থেকে বাদ পড়েনি বাংলাদেশও। শঙ্কা রয়েছে ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের প্রথম তেল-শূন্য হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (১ এপ্রিল) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য ওঠে আসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালী বন্ধের শঙ্কায় তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আমদানিনির্ভর বাংলাদেশে জ্বালানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এদিকে গ্লোবাল থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর উচ্চ নির্ভরশীলতার কারণে বাংলাদেশ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হতে পারে।
ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের সীমিত জ্বালানি পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আর অনেক ফিলিং স্টেশন সরবরাহ শেষ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
রাজধানীর বাইরের এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। যেখানে অল্প পরিমাণ জ্বালানি প্লাস্টিকের বোতলে উচ্চ দামে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি হচ্ছে।
সবার মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। কারণ পাম্পে জ্বালানি ফুরিয়ে যাচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি হয়েছে। রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতেও যানবাহনের সংখ্যা কমে এসেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় একমাত্র শোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে’ মজুত অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ খুবই সীমিত। মাত্র দুই সপ্তাহের মতো চাহিদা মেটানো সম্ভব এই জ্বালানি দিয়ে। একইভাবে ডিজেল ও অকটেনের মজুতও দ্রুত কমে আসছে। মার্চের শুরুর হিসাব অনুযায়ী, ডিজেলের মজুত ছিল মাত্র ৯ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনের আরও বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এছাড়া রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুরোধও জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার দাবি করছে, দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স