বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানির দাম
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০১-০৪-২০২৬ ১২:১০:৩১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০১-০৪-২০২৬ ১২:১০:৩১ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকলেও দেশে এখনও ভোক্তা পর্যায়ে দাম সমন্বয় করা হয়নি। ফলে জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হতে পারে। অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আসন্ন জাতীয় বাজেটে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, যা সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করবে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত আরও তীব্র হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতেও পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ১০ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম বেড়ে হয় ১০২ ডলার ৩০ সেন্ট, যা ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
গবেষণা বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ ডলার বাড়লেই বাংলাদেশের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় বেড়ে যায়। আর যদি দীর্ঘ সময় ধরে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের বেশি থাকে— তাহলে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে হিসাব করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকা।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ ধরনের প্রাক্কলন তুলে ধরেছে। সংস্থাটির প্রধান গবেষক এম জাকির হোসেন খান বলেন, ‘‘বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য মূল্যবৃদ্ধিও দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় ও বাজেটের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।’’
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার সামনে দুটি কঠিন বিকল্পের মুখে পড়তে পারে— একদিকে জ্বালানির দাম বাড়ানো, অপরদিকে বাজেট থেকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া। উভয় ক্ষেত্রেই অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতে কাঠামোগত সংস্কার, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া এই চাপ থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম যদি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে থাকে, তাহলে আগামী বাজেটে জ্বালানি ভর্তুকির বোঝা ঠিক কতটা বাড়বে, এবং সেই চাপ সামাল দিতে সরকার কী কৌশল নেবে— সেই সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স