ঈদযাত্রা
৭ দিনে ২০৪ মৃত্যু, সরকারি হিসাবে কম দেখানো নিয়ে প্রশ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৫-০৩-২০২৬ ০১:৩৮:১৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৫-০৩-২০২৬ ০১:৩৯:১৬ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
উৎসবের আনন্দে ভরপুর থাকার কথা, অথচ ঈদের সময় সড়ক যেন বারবারই বিষাদের কারণ হয়ে ওঠে। এবারের ঈদেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ঈদের সাত দিনের (১৭–২৩ মার্চ) ছুটিতে সারাদেশে ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০০ জন এবং আহত হয়েছেন ২১৭ জন। তবে বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক হিসাবে একই সময়ে ২৬৮টি দুর্ঘটনায় অন্তত ২০৪ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যানের এই বড় পার্থক্য তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি তথ্যে অনেক দুর্ঘটনাই অন্তর্ভুক্ত হয়নি। উদাহরণ হিসেবে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও বিআরটিএর হিসাবে নেই। এমনকি ২১ মার্চের ২৪ ঘণ্টার তালিকায় কুমিল্লার কোনো ঘটনাই উল্লেখ করা হয়নি।
ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ঈদের আগের রাত থেকে পরদিন বিকেল পর্যন্তই ১৫১ জন আহত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অন্যান্য হাসপাতালেও ছিল একই চিত্র। অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইককে ঘিরে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদযাত্রা সাধারণত ১৫ দিন ধরে বিবেচনা করা হয়—ঈদের আগে সাত দিন, ঈদের দিন এবং পরের সাত দিন। গত বছর এই সময়ে ৩১৫টি দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত হন। আর ২০২৪ সালে একই সময়ে ৩৭২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৪১৬ জন, যা ছিল এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এবারের ঈদযাত্রা শুরু হয় ১৭ মার্চ। ২৩ মার্চ সাত দিনের ছুটি শেষ হলেও এখনও অনেক প্রতিষ্ঠানে ছুটি চলমান। ফলে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মার্চ ১২টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হন। পরদিন ১৮ মার্চ ১৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ১৩ জন এবং আহত হন ৬২ জন। ১৯ মার্চ ১১টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৮ জন, আহত ৭ জন। ২০ মার্চ ছয়টি দুর্ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু ও ৩৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ২১ মার্চ ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন। ২২ মার্চ ১৯টি দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ৩২ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হন। আর ২৩ মার্চ ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য প্রাথমিক। ছুটি শেষে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তার আশঙ্কা, এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হতে পারে।
অন্যদিকে, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার সময় দুর্ঘটনা বাড়ার প্রবণতা থাকে। কারণ, এ সময় সড়কে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ তুলনামূলকভাবে কমে যায়।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স