ঢাকা , বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ , ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন-তেল আবিবকে পাঁচ শর্ত দিল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২৫-০৩-২০২৬ ১১:২৯:৫৪ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ২৫-০৩-২০২৬ ১২:৩২:৫৭ অপরাহ্ন
যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন-তেল আবিবকে পাঁচ শর্ত দিল ইরান ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে পাঁচটি কঠোর শর্ত পেশ করেছে ইরান। সোমবার (২৩ মার্চ) হিব্রু সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। 

ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরোক্ষ আলোচনার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তেহরান তাদের এই দাবিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় ধরনের হামলার পর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন এক নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে প্রথম ও প্রধান দাবি হলো দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে ইরান বা তাদের মিত্রদের ওপর কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হবে না—এমন একটি আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা তাদের প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির বিষয়ে একটি নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছে। এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো প্রণালিটির ওপর কার্যত ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম এই রুটটি নিজেদের কবজায় রাখার মাধ্যমে ইরান ভবিষ্যতে যেকোনো মার্কিন অবরোধ বা চাপের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে চাইছে।

সামরিক ক্ষেত্রে ইরানের দাবিগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য বেশ অস্বস্তিকর হতে পারে। ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, অঞ্চলে উত্তেজনার প্রধান উৎস হলো এই মার্কিন সামরিক উপস্থিতি। এর পাশাপাশি যুদ্ধের ফলে ইরানের অবকাঠামো ও অর্থনীতির যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য বড় অংকের আর্থিক ক্ষতিপূরণও চেয়েছে তেহরান। গত কয়েক সপ্তাহের হামলায় ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনার যে ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, তার জন্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে দায়বদ্ধ করার লক্ষ্যেই এই ক্ষতিপূরণের দাবি তোলা হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে আসা পঞ্চম শর্তটি মূলত তথ্য ও প্রচারযুদ্ধ সংক্রান্ত। তেহরান দাবি করেছে যে, যেসব আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বা ব্যক্তি ইরানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে কিংবা শত্রুভাবাপন্ন কার্যকলাপে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হয় ইরানের কাছে হস্তান্তর করতে হবে অথবা তাদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ইরান মনে করছে, সামরিক যুদ্ধের পাশাপাশি একটি পরিকল্পিত প্রচারযুদ্ধ তাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে, যা বন্ধ করা এই চুক্তির অন্যতম শর্ত হওয়া উচিত।

ইরানের এই পাঁচটি দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। সোমবার এক বক্তব্যে ট্রাম্প জানান যে, ওয়াশিংটন বেশ কিছুদিন ধরেই ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং এবার ইরান আলোচনার বিষয়টিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে বর্তমানে 'অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪' এর আওতায় ইরান যেভাবে ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে, তাতে এই শর্তগুলো নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে তেহরানের এই শর্তগুলো এখন বিশ্ব রাজনীতির নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ