অযৌক্তিকভাবে জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি, পুনর্বিবেচনার দাবি এওএবি’র
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৪-০৩-২০২৬ ০৭:৩৫:০৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৪-০৩-২০২৬ ০৭:৩৫:০৮ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
দেশে জেট ফুয়েলের দামে এক লাফে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। সংগঠনটি বলছে, এই সিদ্ধান্ত দেশের বিমান চলাচল খাতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এওএবি জানায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জেট এ-১ জ্বালানির মূল্য হঠাৎ করে বড় পরিসরে বাড়িয়েছে, যা বর্তমান বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিইআরসি ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত সভায় ৫ মার্চ থেকে ২২ মার্চ সময়ের প্ল্যাটস রেটের গড়, জানুয়ারি-জুন সময়ের পরিবর্তিত প্রিমিয়াম, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং ডিজেলের মূল্য অপরিবর্তিত ধরে জেট ফুয়েলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বেড়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা হয়েছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার মূল্য ০.৭৩৮৫ ডলার থেকে বেড়ে ১.৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এওএবি’র সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে জানিয়েছে। গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে এবং এসব তেল আগের নির্ধারিত দামেই কেনা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম কমতির দিকে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাকে ভিত্তি করে এত বড় বৃদ্ধি কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
তিনি আরও বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে এই মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিকভাবে বেশি। যেখানে ভারত ও নেপাল জেট ফুয়েলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে, সেখানে পাকিস্তান-এ ২৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং মালদ্বীপ-এ ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তুলনায় বাংলাদেশে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি অত্যন্ত উচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়।
এওএবি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, নতুন এই মূল্য কার্যকর হলে দেশের এয়ারলাইন্সগুলো মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়বে। এর প্রভাব সরাসরি পড়বে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের ওপর, বাড়বে বিমান ভাড়া। একই সঙ্গে জেট ফুয়েলের ওপর কর বৃদ্ধির কারণে পরিচালন ব্যয় আরও বেড়ে যাবে, যা পুরো এভিয়েশন খাতের টেকসই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
এ অবস্থায় সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে এওএবি বলেছে, বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে দেশের এভিয়েশন খাতের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স