ঈদের ছুটিতে রাঙামাটি-সাজেকে পর্যটকের ঢল
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৪-০৩-২০২৬ ০৭:১০:২২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৪-০৩-২০২৬ ০৭:১০:২২ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে রাঙামাটি ও সাজেক ভ্যালির রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে নেমেছে পর্যটকের ঢল। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই অবকাশ যাপনে এসে উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক পরিবেশের অসাধারণ সব মুহূর্ত। তবে এবার অতিরিক্ত পর্যটকের ভিড়ে অনেকে রিসোর্ট ও কটেজে কক্ষ না পেয়ে রাত কাটিয়েছেন গাছতলায় ও রাস্তাঘাটে।
রাঙামাটি শহরের মধ্যে ৬০-৭০টি আবাসিক হোটেল রয়েছে। সবকটি আবাসিক হোটেলেই কোনো কক্ষ খালি ছিল না। এই ঈদে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক রাঙামাটিতে এসেছেন। পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট, হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, বোট, লঞ্চ ও সিএনজি চালকেরা সবাই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ঈদে পর্যটন খাতে কয়েক কোটি টাকা আয় করা সম্ভব হয়েছে। রাঙামাটিতে পর্যটকদের দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। অন্যদিকে মেঘের দেশ সাজেক ভ্যালি, ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদ ঘেঁষে বিস্তীর্ণ জলরাশি, সেনাবাহিনীর আরণ্যক, কাপ্তাই কর্ণফুলী পেপার মিল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, রাঙামাটির রাজবাড়ি, জাদুঘরসহ আরও অনেক কিছু রয়েছে।
ঘুরতে আসা এক পর্যটক বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে আমি ঢাকা থেকে রাঙামাটিতে বেড়াতে এসেছি। পরিবার নিয়ে ঘুরাঘুরি করে অনেক মজা ও আনন্দ পেয়েছি। নিরাপত্তাসহ সবকিছুই আমার কাছে চমৎকার লেগেছে। কাপ্তাই হ্রদে নৌকা ভ্রমণ এবং লেক-পাহাড়ের দৃশ্য আমার খুব ভালো লেগেছে। এখানকার পর্যটন শিল্পকে আরও উন্নত ও আধুনিক করা হলে দেশের মানুষ কষ্ট করে বিদেশে যাবেন না।
পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের টিকিট কাউন্টারম্যান সোহেল বলেন, ঈদের পরদিন থেকে ঝুলন্ত সেতুতে প্রতিদিন ৩-৪ হাজার টিকিট বিক্রি হচ্ছে। প্রতি টিকিটের মূল্য ৩০ টাকা। এই ঈদে আমাদের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার রাঙামাটিতে অনেক বেশি পর্যটক এসেছে। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় পর্যটকেরা তাদের মনমতো ঘুরে বেড়াতে পারছেন।
পর্যটন নৌযান ঘাটের টোল আদায়কারী মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, এই ঈদে প্রতিদিন ৪০-৫০টি পর্যটকবাহী বোট ভাড়া হচ্ছে। রাঙামাটিতে পর্যটক আগমনে আমাদের যে চাহিদা ছিল, তার চেয়েও বেশি পর্যটক এসেছে এবার। সরকারি ছুটির পরও অনেক পর্যটক আসতে দেখা গেছে। আমাদের ব্যবসা গত বছরের তুলনায় অনেক ভালো হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পর্যটকেরা ঘুরেফিরে আনন্দ উপভোগ করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিন পার্বত্য জেলার পর্যটন স্পটগুলো আরও আধুনিকতার ছোঁয়া পেলে দেশের মানুষ কষ্ট করে বিদেশে যেতেন না। তিন পার্বত্য জেলাকে পর্যটন শিল্প দিয়ে সাজানো গেলে দেশের মানুষ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে যেতেন না।
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স