আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রেলওয়ের সময়ানুবর্তিতা রক্ষা করতে এবং শিডিউল বিপর্যয় রোধে একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সোমবার (১৬ মার্চ) থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ঢাকার বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে উত্তরবঙ্গগামী ৯টি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে।
যাত্রীসাধারণের ভোগান্তি কমাতে এবং ট্রেন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি রাজধানীর রেল ভবনে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যাত্রাবিরতি বাতিল হওয়া ট্রেনগুলোর মধ্যে রয়েছে— একতা, দ্রুতযান, পঞ্চগড়, নীলসাগর, কুড়িগ্রাম, লালমনি, রংপুর, চিলাহাটি ও বুড়িমারী এক্সপ্রেস। একইসঙ্গে ঢাকা থেকে বিমানবন্দর এবং বিমানবন্দর থেকে ঢাকা স্টেশন পর্যন্ত কোনো আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট ইস্যু না করার সিদ্ধান্তও কার্যকর হয়েছে।
যাত্রীচাপ সামলাতে ট্রেনের প্রস্থান স্থলেও কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। সুন্দরবন, মধুমতি, বেনাপোল ও জাহানাবাদ এক্সপ্রেসের পাশাপাশি রূপসী বাংলা এবং নকশীকাঁথা কমিউটার ট্রেনগুলো ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের মূল প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে শহরতলি প্ল্যাটফর্ম থেকে যাত্রা শুরু করবে। এছাড়া রেলের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে এবং সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার্থে ঈদের আগে-পরে মোট ২০ দিন ট্রেনে কোনো বিশেষ ‘সেলুনকার’ সংযোজন করা হবে না।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনাসহ দেশের বড় স্টেশনগুলোতে বিনা টিকিটের যাত্রী প্রবেশ ঠেকাতে জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি, র্যাব ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে চলন্ত ট্রেন ও রেললাইনে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি যে কোনো বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে দমনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন