রামপাল ট্র্যাজেডি
‘জীবনে প্রথম একসঙ্গে ৯ কবর খুঁড়লাম, হাত কাঁপছিল’
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৩-০৩-২০২৬ ০২:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৩-০৩-২০২৬ ০৩:১০:৪৬ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকসহ একই পরিবারের ৯ সদস্যকে দাফনের জন্য মোংলা পৌর কবরস্থানে পাশাপাশি ৯টি কবর খোঁড়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ মার্চ) জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে তাদের এসব কবরে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মোংলা পৌর কবরস্থানের এক কোণে পাশাপাশি খোঁড়া কবরগুলো ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। নিহতদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা সেখানে ভিড় করছেন।
কবরস্থানের খাদেম ও গোরখোদক মুজিবুর ফকির বলেন, প্রায় ১৭ বছর ধরে তিনি কবরস্থানের দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু কখনও একই পরিবারের এতজনের জন্য একসঙ্গে কবর খুঁড়তে হয়নি।
তিনি বলেন, জীবনে প্রথমবার একসঙ্গে ৯টি কবর খুঁড়লাম। কাজ করতে গিয়ে হাত কাঁপছিল। খুব কষ্ট লাগছিল।
তিনি আরও জানান, পরিবারের সদস্যদের সম্মতিতেই একই স্থানে পাশাপাশি কবরগুলো খোঁড়া হয়েছে, যাতে স্বজনরা একই জায়গায় চিরনিদ্রায় শায়িত থাকতে পারেন।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিহতদের মরদেহ মোংলার শেওলাবুনিয়া এলাকায় পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। শত শত মানুষ শেষবারের মতো তাদের দেখতে ছুটে আসেন। চারদিকে তখন কান্না আর শোকের মাতম।
আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে পরিবারের নিহত চার নারীর মরদেহ রাখা হয়েছে। আর বাকি পাঁচজনের মরদেহ রাখা হয়েছে মোংলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে। আশপাশের নয়টি মসজিদ থেকে আনা হয়েছে নয়টি খাটিয়া। গোসল সম্পন্ন করে একে একে সেখানে রাখা হয়েছে নিহতদের মরদেহ।
নিহত আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই মো. সাজ্জাদ সরদার বলেন, পরিবারের সবাই ছেলের বিয়ের আনন্দে ছিল। নতুন বউ ঘরে তোলার আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হলো।
তিনি বলেন, রাজ্জাক ভাই ছেলের বিয়ে দিয়ে নতুন বউ ঘরে তুলবেন এই আনন্দ নিয়েই আমরা সবাই ছিলাম। কিন্তু সেই বিয়ের আনন্দই আজ আমাদের পুরো পরিবারকে শেষ করে দিল।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মোংলা পৌর কবরস্থানে পাশাপাশি খোঁড়া ওই ৯টি কবরে তাদের দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, বুধবার (১১ মার্চ) রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের (সাব্বির) বিয়ে হয়।
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা একটি মাইক্রোবাসে করে ফিরছিলেন। পথে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ মোট ১৪ জন নিহত হন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স