বাংলাদেশের জন্য ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ ভারত পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি জানান, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেদের জ্বালানির চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারতের ডিজেলের প্রাপ্যতা, শোধন ক্ষমতা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বিবেচনা করা হবে। তিনি জানান, ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোতে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানির অন্যতম বড় সরবরাহকারী। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ডিজেল সরবরাহের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ২০০৭ সাল থেকে আসামের নুমালীগড় রিফাইনারি থেকে নৌপথ, রেলপথ এবং বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন ব্যবহার করে বাংলাদেশে পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহ করছে।
জয়সওয়াল বলেন, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) সঙ্গে বিক্রয়-ক্রয় চুক্তির আওতায় নিয়মিত ডিজেল রপ্তানি চলছে। তবে ভবিষ্যৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারতের নিজস্ব চাহিদা ও জ্বালানির প্রাপ্যতাও বিবেচনায় নেওয়া হবে। এদিকে বিপিসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রেজানুর রহমান জানান, নুমালীগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে অন্তত ৫ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। বিপিসির এক কর্মকর্তা জানান, সোমবার বিকেল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে আসামের নুমালীগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল পৌঁছানো শুরু হয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার টন ডিজেল পাম্প করতে প্রায় ৪৫ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। ভারতের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপসহ কয়েকটি দেশ একই ধরনের জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ করেছে, যা বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন