৫ আগস্ট ও ১৬ জুলাই দিবস রেখেই নতুন পরিপত্র জারি
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১২-০৩-২০২৬ ১২:৪৭:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১২-০৩-২০২৬ ০২:১৫:৩৫ অপরাহ্ন
সরকার নির্ধারিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন সংক্রান্ত নতুন পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
বুধবার (১১ মার্চ) জারি হওয়া এই পরিপত্রে আগের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ এবং ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের কথা বলা হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর জারি হওয়া এক পরিপত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কয়েকটি দিবস বাতিল করেছিল। নতুন সরকারও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।
বাতিল হওয়া দিবসগুলোর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস, ৫ আগস্ট শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী, ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেল দিবস, ৪ নভেম্বর জাতীয় সংবিধান দিবস এবং ১২ ডিসেম্বর স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস।
নতুন পরিপত্রে আগের মতোই দিবসগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
ক-শ্রেণি: জাতীয় পর্যায়ের ১৭টি দিবস ও উৎসব যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন বা পালন করা হবে। এর মধ্যে ৫ আগস্টকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন হিসেবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালন করা হবে।
এছাড়া ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে ছাত্র আবু সাঈদের নিহত হওয়ার দিন ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্তও বহাল রাখা হয়েছে।
খ-শ্রেণি: খ-শ্রেণিতে থাকা ৩৭টি দিবস ঐতিহ্যগতভাবে পালিত হয়ে থাকে বা পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রীরা সম্পৃক্ত থাকবেন এবং গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সরকারি উৎস থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
গ-শ্রেণি: গ-শ্রেণিতে থাকা ৩৫টি দিবস সীমিত পরিসরে প্রতীকীভাবে পালন করা হবে। এসব অনুষ্ঠানে মন্ত্রীদের উপস্থিতির বিষয়টি পরিস্থিতি অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে এবং উন্নয়ন খাত থেকে কোনো বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ অতিরিক্ত কিছু দিবস পালন করে থাকে যেগুলো অনেক ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তিমূলক বা বর্তমানে তেমন গুরুত্ব বহন করে না। সময় ও সম্পদ সাশ্রয়ের জন্য সরকারি সংস্থাগুলো এসব দিবস পালনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এড়িয়ে যেতে পারে।
তবে শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ (১–৭ আগস্ট), বিশ্ব শিশু সপ্তাহ (২৯ সেপ্টেম্বর–৫ অক্টোবর), জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ (নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ), সশস্ত্র বাহিনী দিবস (২১ নভেম্বর), পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ, মৎস্য পক্ষ, বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং জাতীয় ক্রীড়া সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
পরিপত্রে দিবস পালনে সরকারি ব্যয় কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সাজসজ্জা ও বড় ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন পরিহার করার নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, বেতার ও টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠান এবং সীমিত আকারে সেমিনার বা সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা যেতে পারে।
এছাড়া কর্মদিবসে সমাবেশ বা শোভাযাত্রা এড়িয়ে চলতে এবং সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি তিন দিনের মধ্যে সীমিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মসূচি যেন অফিসের স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত না ঘটায়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আলোচনা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছুটির দিন অথবা অফিস সময়ের পরে আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে পরিপত্রে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স