ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাত্র বা ড্রামে তেল সরবরাহ বন্ধের নির্দেশনায় বিপাকে কৃষক

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৮-০৩-২০২৬ ১২:০৯:১৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৮-০৩-২০২৬ ১২:০৯:১৭ অপরাহ্ন
পাত্র বা ড্রামে তেল সরবরাহ বন্ধের নির্দেশনায় বিপাকে কৃষক সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
নিজের ডিজেল চালিত ইঞ্জিন শ্যালো মেশিনে চার বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন কৃষক জাবেদ আলী। হাতে ডিজেল নেয়ার পাত্র জেরিকেন হাতে নিয়ে ঘুরছেন মেসার্স সাহা ফিলিং স্টেশনে ডিজেল নেবেন বলে। কিন্তু বারবার তাকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন পাম্পের লোকজন। তবুও তিনি ঘুরে ফিরে যাচ্ছেন পাম্পের তেল বিতরণকারীদের কাছে। এবার ধমক দিয়ে তাকে বলা হয় 'হবার নয় বোঝেন না'!

কৃষক জাবেদ আলী জানান, 'শ্যালোতে ৪-৫ বিঘা ধান লাগাইছি। এই পাম্প থেকে তেল (ডিজেল) নেই। আজ দিচ্ছে না কেন বুঝবার পাচ্ছি না।' ভূরুঙ্গামারী উপজেলার খামার আন্ধারীঝাড় এলাকার জাবেদ আলী জানেন না ডিজেল নিয়ে কেন এতো কড়াকড়ি। পাম্পের মিটার ম্যান মোন্নাফ আলী জানান, ইউএনও স্যারের কড়া নির্দেশ ড্রামে তেল দেয়া যাবে না। তাই তাকে দেয়া হচ্ছে না। কাউকে দেয়া হচ্ছে না। আগে থেকেই ওই পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ করেছেন তারা। বলছেন, ফুরিয়ে গেছে।

কুড়িগ্রামের সব এলাকায় এমন অবস্থা। চাহিদা মতো ডিজেল পাচ্ছেন না কৃষকরা। ফলে চলমান বোরো মৌসুমে শ্যালো ইঞ্জিনে ডিজেলের সেচে যারা আবাদ করেছেন তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। সরকারি নির্দেশ যানবাহন ছাড়া পাত্রে বা ড্রামে ডিজেল সরবরাহ করা যাবে না। এ নির্দেশে ভাবা হয়নি কৃষি প্রধান জেলার কৃষকের কথা। এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন জানান, ড্রামে ডিজেল সংগ্রহ বা সরবরাহ নিষেধ করা হয়েছে। তবে কৃষকরা নির্ধারিত ডিলারের কাছ থেকে ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবেন। এ নির্দেশনা কতটা কৃষি বান্ধব?  এ প্রশ্নে ইউএনও জানান, বিষয়টি দেখছি।

নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জের জুলেখা ফিলিং স্টেশনে দেখা যায় শুধু পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে। ডিজেল নেই বলে দিচ্ছেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার বেশির ভাগ পাম্পে একই অবস্থা। কোথাও ডিজেল নেই। কোথাও পেট্রোল।

চরাঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি বিপাকে তারা। নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙা ইউনিয়নের চর ফলিমারীর কৃষক জহুরুল ইসলাম জানান, চরের জমিত প্রতিদিন পানি দিতে হয়। গ্রামের বাজারে বলছে তেল পাওয়া যায় না। পাম্পে গেলে বলে জেরিকেনে দেয়া যাবে না। এই সময় ঠিক মতো সেচ দিতে না পারলে আবাদ হবে না। ' চরের কৃষকদের অনেকেরই ভাষ্য একই রকম। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এখন পর্যন্ত ডিজেলের সংকট নেই। তবে মজুত কতক্ষণ চলবে এটা বলা মুশকিল। সে দিক থেকে একটা শঙ্কা আছে। তবে আশা করছি সমস্যা হবে না।তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা আবেদন জানিয়েছি ডিজেল বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে কৃষকদের গুরুত্ব দিয়ে ডিজেল দেয়। এখন পর্যন্ত জেলায় কোথাও দামের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সরবরাহ সংকটের কথা বলছেন সবাই। এ সংকটকাল বৃদ্ধি হলে কৃষকরা বিপাকে পড়তে পারে। যদিও প্রশাসন বলছে কোন সংকট থাকবে না।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ