ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিশু-কিশোরের ভালোবাসায় মুগ্ধ হাবিব

উঠানে ​উঠানে ভোটের উত্তাপ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৫-০২-২০২৬ ০৯:১২:৪৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৫-০২-২০২৬ ০৯:১২:৪৭ অপরাহ্ন
উঠানে ​উঠানে ভোটের উত্তাপ ফোকাস বাংলা নিউজ
ঢাকা–৯ আসনে উঠানে–উঠানে ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনী উত্তাপ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি আলাপ করছেন বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব। এসব উঠান বৈঠকেই ভোটের হিসাব–নিকাশ, নাগরিক সমস্যা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে চলছে খোলামেলা আলোচনা। এরই ফাঁকে শিশু–কিশোরদের হাতে চকলেট তুলে দিয়ে তাদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। ভোটের কঠিন আলাপের মাঝেও শিশুদের হাসিতে হাবিব হয়ে উঠছেন শিশু–কিশোরের প্রিয় মুখ।

ঢাকা–৯ আসনের বিভিন্ন অলি–গলি, পাড়া–মহল্লা ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব। খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা থানাধীন এলাকার উঠানে উঠানে বসছে নির্বাচনী বৈঠক। কোথাও উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছেন, কোথাও ভোটারদের সঙ্গে হাতে হাত, বুকে বুক মিলিয়ে কুশল বিনিময় করছেন তিনি। ছোট–বড় সবাইকে সম্মান জানিয়ে ভোট ও দোয়া চাইছেন হাবিব।

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে হাবিব বিভিন্ন পাড়ায় সংক্ষিপ্ত উঠান বৈঠকে এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। ভোটাররাও সরাসরি তাদের অভাব–অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা জানাচ্ছেন। খিলগাঁওয়ের এক ভোটার বলেন, “আমরা চাই এমন একজন প্রতিনিধি, যিনি আমাদের কথা শুনবেন। হাবিব ভাই সরাসরি এসে কথা বলছেন—এটাই বড় বিষয়।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা–৯ আসনটি জনবহুল ও মিশ্র আবাসিক–বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। খিলগাঁও এলাকায় মূলত মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের বসবাস। বাসাবো ও দক্ষিণ বনশ্রী বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত বর্ধনশীল মুগদা এলাকা বাণিজ্য ও যাতায়াতের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া মান্ডা, মাদারটেক, গোড়ান ও নন্দীপাড়া এলাকাগুলো ঘনবসতিপূর্ণ। এ আসনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্যে রয়েছে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খিলগাঁও ফ্লাইওভার ও বাসাবো বৌদ্ধমন্দির। পাশাপাশি বালু নদী, রামপুরা খাল ও মান্ডা খাল এই এলাকার পরিবেশ ও জলাবদ্ধতার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা–৯ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির দীর্ঘদিনের ভোট ব্যাংক ও সাংগঠনিক শক্তির সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে তারুণ্যের রাজনীতির গ্রহণযোগ্যতা। বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটাররা কাকে বেছে নেবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে জয়–পরাজয়ের সমীকরণ। প্রচারণার সময় ভোটারদের আলোচনায় উঠে আসছে এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা। জলাবদ্ধতা, যানজট, গ্যাস সংকট, মাঠ ও পার্কের অভাবের কথা জানাচ্ছেন তারা। সবুজবাগ, খিলগাঁও ও মুগদা এলাকার রাস্তাগুলো সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি মাদক, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত ও ছিনতাই নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বাসিন্দারা।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য, শয্যা সংকট ও চিকিৎসাসেবায় অবহেলার অভিযোগও নিয়মিতভাবে উঠছে ভোটার আলোচনায়। দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে এলাকার প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ভোটার। এ বিষয়ে উঠান বৈঠকে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ভোটারদের এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানই তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, “ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেই আমি তাদের কষ্ট বুঝতে চাই। আপনারাই আমার শক্তি, আপনাদের আস্থার ওপরই আমার রাজনীতি।” উঠানে–উঠানে এ ধরনের সরাসরি গণসংযোগ ও খোলামেলা আলাপ ঢাকা–৯ আসনের নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/নিরব


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ