ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​গভীর জ্বালানি সংকট চোখ রাঙাচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৩-০১-২০২৬ ১১:০১:৪৯ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ১৩-০১-২০২৬ ০১:৪৩:৪১ অপরাহ্ন
​গভীর জ্বালানি সংকট চোখ রাঙাচ্ছে ফাইল ছবি
গ্যাস সরবরাহ সংকটে গভীর উদ্বেগ ।দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এখন সংকটমুখী হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিল্প-কারখানায় গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ক্রমেই বড় ফারাক তৈরি হচ্ছে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাবে সংকট আরও প্রকট হয়েছে। দেশে এখন এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুট, কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৫৮ কোটি ঘনফুট, অর্থাৎ দৈনিক ১২২ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সরবরাহ ১৭ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট কমেছে। দেশের পাঁচটি গ্যাস উত্তোলনকারী কোম্পানির মধ্যে চারটির উৎপাদন গত এক বছরে হ্রাস পেয়েছে। স্থানীয় উৎপাদনের ঘাটতি মেটাতে সরকার এলএনজি আমদানি বাড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরে অন্তত ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় কোম্পানিগুলোর উৎপাদন কমেছে; বিশেষ করে বিজিএফসিএল, বাপেক্স এবং শেভরনের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে, তবে এটি সামগ্রিক ঘাটতি পূরণে পর্যাপ্ত নয়। স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় গ্রিডে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কমে যাচ্ছে। এলএনজি সরবরাহে দেশের দুটি ভাসমান টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা ১০০ কোটি ঘনফুট। তবে গ্যাস সংকট মেটাতে নতুন অবকাঠামো প্রয়োজন, যা অন্তর্বর্তী সরকার এখনও মাঠ পর্যায়ে কার্যকর করতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বদরূল ইমাম মনে করেন, দ্রুত বিনিয়োগ ও পরিকল্পিত কৌশল ছাড়া দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলএনজি আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো ও স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি জরুরি।জ্বালানি বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারের পরিকল্পনায় এলএনজি এবং স্থানীয় গ্যাস উভয়কেই বাড়ানো হবে। নতুন দুটি রিগ ও গভীর ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া, এলএনজি আমদানির জন্য নতুন ভাসমান ও ল্যান্ডবেইজ টার্মিনালের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনার লক্ষ্য স্বল্পমেয়াদে তিন বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি করা।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ