ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জোরালো বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১১-০১-২০২৬ ১২:৪৬:২৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১১-০১-২০২৬ ১২:৪৬:২৩ অপরাহ্ন
​যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জোরালো বিক্ষোভ সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
কবি ও সমাজকর্মী রেনে নিকোল গুড (৩৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র। কয়েকদিন ধরে চলা ওই বিক্ষোভ পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা জেগেছে। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক সিটি, টেক্সাস, ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিবাদকারীরা। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার (৭ জানুয়ারি) রেনে নিকোল গুডের মৃত্যুর পর থেকেই মিনিয়াপোলিসে টানা বিক্ষোভ চলছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সেখানে কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এসময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষও বাধে।

জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে জানিয়েছে, তীব্র ঠান্ডা ও ঝোড়ো হাওয়া উপেক্ষা করে রোববারও মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভে অংশ নেন কয়েক হাজার মানুষ। এসময় তারা আইসিই বিরোধী স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ান। রেনে গুডকে এক অভিবাসন কর্মকর্তা (আইসিই এজেন্ট) গুলি করে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনা আরও বড় প্রভাবক হয়েছে পোর্টল্যান্ডে বৃহস্পতিবার এক হাসপাতালের বাইরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে দুই ভেনেজুয়েলান অভিবাসী আহত হওয়ার পর। বিক্ষোভাকারীদের মতে, আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) সীমা লঙ্ঘন করেছে। তাই তারা দেশজুড়ে এক হাজারেরও বেশি ‘ICE Out For Good’ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেছে।

বিবৃতিতে প্রতিবাদকারীরা বলেন, এই ঘটনাগুলো ফেডারেল অভিবাসন সংস্থাগুলোর ‘নিয়ন্ত্রণহীন সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ভয়াবহ ধারা’ প্রকাশ করছে। তাদের দাবি, শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত কর্মসূচির মাধ্যমে নিহতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে শনিবার বলেন, বিক্ষোভের ‘অধিকাংশই শান্তিপূর্ণ’ ছিল। তিনি গুডের মৃত্যুর আগে ও পরেও মিনিয়াপোলিস থেকে আইসিই সরিয়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। টেক্সাসের অস্টিনে আয়োজিত এক সমাবেশে কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ ক্যাসার বলেন, ‘আমরা হতাশায় বসে থাকতে পারি না, কিছু না করে থাকা যাবে না।’

তিনি এসময় স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের সচিব ক্রিস্টি নোয়েমের পদত্যাগ দাবি করেন। নোয়েম গুডকে গুলি করা আইসি এজেন্টের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ঘটনাটিকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছিলেন। মার্কিন প্রশাসন বলছে, এই ঘটনাটি স্রেফ সময়ের প্রয়োজনে ঘটেছে। তাদের দাবি, আত্মরক্ষার কারণে ওই এজেন্ট রেনে গুডকে গুলি করেন। হোয়াইট হাউসের দাবি, তিনি একজন কর্মকর্তাকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তাই আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়। তবে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একজন অভিবাসন কর্মকর্তা খুব কাছ থেকে গুডকে তিনবার গুলি করেন। এসময় গুড সরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ওই কর্মকর্তা তার মৃত্যু নিশ্চিত করতেই গুলি ছোঁড়েন।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন  


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ