লুকাতে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন মাদুরো ও তার স্ত্রী
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
০৭-০১-২০২৬ ০৫:৩৫:০০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-০১-২০২৬ ০৫:৩৫:০০ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস মার্কিন বিশেষ বাহিনীর হাত থেকে পালানোর সময় নিজেদের বাসভবনের একটি নিরাপদ কক্ষে লুকাতে গিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, কারাকাসে অভিযানের সময় মাদুরো ও তার স্ত্রী একটি ভারী স্টিলের দরজার আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করেন।
তবে দরজার ফ্রেমটি নিচু হওয়ায় দ্রুত প্রবেশের সময় তারা উভয়েই মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান। মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের সদস্যরা তাদের নাগাল পাওয়ার আগেই কক্ষের দেয়াল বা দরজার সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লেগে এই জখম ও রক্তপাতের সৃষ্টি হয় বলে এনবিসি নিউজ ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করার সময় মাদুরো ও ফ্লোরেসের শরীরে দৃশ্যমান জখম লক্ষ্য করা গেছে। আদালত কক্ষের স্কেচে ফ্লোরেসের মাথায় ব্যান্ডেজ দেখা গেছে এবং তার মুখে কালশিটে দাগ স্পষ্ট ছিল। ফ্লোরেসের আইনজীবী দাবি করেছেন, তার মক্কেলের পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়ে থাকতে পারে এবং শুনানির সময় তাকে বেশ কয়েকবার মাথা নিচু করে ঝিমুনি দিতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে মাদুরোকেও বসা ও দাঁড়ানোর সময় বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা এই আঘাতগুলোকে ‘গুরুতর নয়’ বলে বর্ণনা করেছেন, তবে মাদুরো স্প্যানিশ ভাষায় বিচারককে বলেন যে তাকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তিনি একজন ‘যুদ্ধবন্দি’। বর্তমানে তারা মার্কিন ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের আইনজীবীরা পূর্ণাঙ্গ শারীরিক পরীক্ষার আবেদন জানিয়েছেন।
মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন জানান, শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী মাদুরোর বাসভবনে অতর্কিত হানা দেয়। এ সময় দম্পতিটি যে কক্ষটিতে লুকিয়ে ছিলেন, সেটির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে মার্কিন বাহিনী ‘ফ্ল্যাশ ব্যাং’ নামক তীব্র আলো ও শব্দ উৎপাদনকারী বিশেষ বিস্ফোরক ব্যবহার করে।
ধারণা করা হচ্ছে, সেই মুহূর্তে দিশেহারা হয়ে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়েই তারা কক্ষের ভেতরে আঘাতপ্রাপ্ত হন। এই অভিযানে মাদুরোর সুরক্ষায় নিয়োজিত কিউবান বাহিনীর সঙ্গে ব্যাপক গোলাগুলি হয়, যাতে অন্তত ৩২ জন কিউবান যোদ্ধা নিহত হন। অভিযানে অংশ নেওয়া ২০০ মার্কিন সেনার মধ্যে কয়েকজন ডেল্টা ফোর্স সদস্যও বুলেট ও স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হয়েছেন, তবে তাদের আঘাত প্রাণঘাতী নয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই আটক অভিযান কোনো ‘শাসন পরিবর্তন’ বা রেজিম চেঞ্জ অপারেশন নয়, কারণ ভেনেজুয়েলার সরকার কাঠামো এখনো অটুট রয়েছে। বর্তমানে দেশটির নেতৃত্বে রয়েছেন মাদুরোর ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ, যার সঙ্গে মার্কিন প্রশাসন ইতিবাচক ও বাস্তবসম্মত সম্পর্ক বজায় রাখার আশা করছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম পুনরায় শুরুর বিষয়ে রদ্রিগেজ সহযোগিতা করবেন বলে ওয়াশিংটন প্রত্যাশা করছে।
সিআইএ-র একটি শ্রেণিবদ্ধ বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করেই রদ্রিগেজের সঙ্গে এই কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মাদক পাচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদুরো দম্পতির এই আটকাদেশ ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে এক নতুন এবং চরম উত্তেজনাকর মোড়ে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ এবং সিএনএন
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স