স্ত্রীসহ মাদুরোকে অপহরণ নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে তীব্র নিন্দা
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
০৬-০১-২০২৬ ০৩:৩৭:১২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৬-০১-২০২৬ ০৪:৩৬:৫৫ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া অ্যাডেলা ফ্লোরেসকে অপহরণ করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা। দেশটির রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালিয়ে এমন অভিযানে নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা সতর্ক করে বলেছেন, একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে আটক করার বিষয়টি একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হতে পারে আন্তর্জাতিক আইনের জন্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মুখে থাকা ডেনমার্ক আর মেক্সিকোও সতর্ক করে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে ১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ নিউ ইয়র্ক সিটিতে একটি জরুরি বৈঠকের আয়োজন করে। একই দিনে মাদুরো এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মার্কিন মামলার শুনানি শুরু হয় নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে।
জাতিসংঘে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাডা মার্কিন এই অভিযানকে ‘আইনি ভিত্তিহীন একটি অবৈধ সশস্ত্র হামলা’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্যের প্রতিধ্বনি কিউবা, কলম্বিয়া এবং নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীনের কণ্ঠেও শোনা গেছে।
কিউবার রাষ্ট্রদূত আর্নেস্টো সোবেরন গুজম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার নিজের ভূখণ্ডের বাইরে এবং উপকূল থেকে দূরে যেখানে তাদের কোনো এখতিয়ার নেই, সেখানে হামলা চালিয়ে এবং সম্পদ দখল করে নিজেদের আইন চাপিয়ে দিচ্ছে। তিনি আরো যোগ করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে কিউবাকেও।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে ‘এমন কোনো সর্বোচ্চ বিচারক’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারে না, যার একারই অধিকার আছে যেকোনো দেশ আক্রমণ করার, অপরাধী চিহ্নিত করার এবং আন্তর্জাতিক আইন, সার্বভৌমত্ব ও হস্তক্ষেপ না করার নীতি উপেক্ষা করে শাস্তি প্রদান ও কার্যকর করার’।
এই জরুরি অধিবেশনে উল্লেখযোগ্য সমালোচকদের মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী মিত্র মেক্সিকো এবং ডেনমার্ক। গত এক বছরে ট্রাম্প এই উভয় দেশকেই আলাদাভাবে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত হেক্টর ভাসকনসেলোস বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন না করে সিদ্ধান্তমূলকভাবে কাজ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তিনি আরো যোগ করেন, জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, সার্বভৌম জনগণই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা মিত্র ডেনমার্ক বলেছে, বলপ্রয়োগ বা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ অন্য কোনো উপায়ে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা কোনো রাষ্ট্রেরই উচিত নয়।
এদিকে, মার্কিন রাজনীতিবিদরা যখন একজন রাষ্ট্রপ্রধানের নাটকীয় আটকের ঘটনায় জর্জরিত, তখন সোমবার ভেনেজুয়েলায় একটি জরুরি আদেশ জারি করা হয়, যা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশিত হয়। যাতে শনিবারের মার্কিন হামলার সমর্থক যে কাউকে তল্লাশি করে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া সোমবারও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এর বৈধতা এবং তাৎপর্য নিয়ে বিতর্ক করে। রাশিয়া, চীন এবং ভেনেজুয়েলার বামপন্থি মিত্ররা এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স, সিবিসি নিউজ, এনবিসি নিউজ, আল-জাজিরা
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স