অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে চালু হচ্ছে না থার্ড টার্মিনাল: উপদেষ্টা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৫-০১-২০২৬ ০৬:২৫:৩৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৫-০১-২০২৬ ০৬:৫৭:২৪ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল আলোচিত থার্ড টার্মিনাল চালু হচ্ছে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, নির্মাণ ও পরিচালনাগত নানা প্রস্তুতি থাকলেও বর্তমান সরকারের সীমিত সময়ের মধ্যে এই টার্মিনাল উদ্বোধনের কোনো পরিকল্পনা নেই।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ওই দিন বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ জারি উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আহমেদ বলেন, “থার্ড টার্মিনাল একটি বড় প্রকল্প। এর পূর্ণাঙ্গ উদ্বোধনের জন্য যে প্রশাসনিক, কারিগরি ও বাণিজ্যিক প্রস্তুতি প্রয়োজন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়সীমার মধ্যে তা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।” তবে তিনি আশ্বাস দেন, প্রকল্পের অগ্রগতি থেমে নেই এবং ভবিষ্যৎ সরকার যেন দ্রুত এটি চালু করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কাজ চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিমান টিকিট বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়ম, সিন্ডিকেট ও যাত্রী হয়রানির বিষয়েও কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, নতুন জারি করা দুটি অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে বিমান টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতারণা, অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং যাত্রী হয়রানির মতো সমস্যাগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
তিনি বলেন, “বিমান টিকিট নিয়ে অসাধু কিছু ট্রাভেল এজেন্সি দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছিল। এর ফলে সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে অভিবাসী কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে এবং জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নতুন অধ্যাদেশে ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন, নবায়ন ও তদারকি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। অনিয়ম প্রমাণিত হলে লাইসেন্স বাতিলসহ আর্থিক জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল নজরদারি বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।
বিমানের ফ্লাইট ডাইভারশন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কারণে প্রায়ই আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পাশের দেশে বা অন্য বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করতে হয়। এই সমস্যা কমাতে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে ক্যাটাগরি থ্রি-তে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে কুয়াশার সময়ও কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিরাপদে বিমান ওঠানামা সম্ভব হবে এবং ঢাকার ওপর চাপ কমবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান। তিনি বলেন, “বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ বাস্তবায়িত হলে বিমান পরিবহন ও ট্রাভেল ব্যবসায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।”
তিনি আরও বলেন, এসব অধ্যাদেশের মাধ্যমে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। বিমানের টিকিটের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ সহজ হবে এবং যাত্রীদের অধিকার সংরক্ষণ করা যাবে। বিশেষ করে বিদেশগামী অভিবাসী কর্মীদের টিকিট নিয়ে প্রতারণার সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নাসরীন জাহান বলেন, “পর্যটন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে এই অধ্যাদেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে এখন আরও নিয়মতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু না হলেও টিকিট বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং বিকল্প বিমানবন্দর উন্নয়নের উদ্যোগ তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রী ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে থার্ড টার্মিনাল চালু না হওয়ায় আগামী কয়েক বছর ঢাকার প্রধান বিমানবন্দরে চাপ অব্যাহত থাকবে বলেও তারা মনে করছেন।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স