মাদরাসার আড়ালে বোমা তৈরির অভিযোগ, বিস্ফোরণে উড়ল দেয়াল
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৭-১২-২০২৫ ১১:৫৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
২৭-১২-২০২৫ ১২:৩৮:২৬ অপরাহ্ন
বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন। ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি মাদরাসা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় ককটেল, কেমিক্যাল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভবনের একাধিক কক্ষ।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় এ বিস্ফোরণ ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। মুহূর্তের মধ্যে একতলা ভবনের দেয়াল উড়ে যায়। দুটি কক্ষের দেয়াল সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। ছাদ ও বিমে ফাটল দেখা দেয়। পাশের আরও কয়েকটি কক্ষ এবং সংলগ্ন একটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মাদরাসাটিতে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সেখানে ছিল না। এতে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে।
বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন মাদরাসার পরিচালক শেখ আল আমিন (৩২), তার স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮) এবং তাদের দুই ছেলে উমায়েত (১০) ও আব্দুল্লাহ (৭)। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভবনের এক পাশে মাদরাসার পাঠদান কার্যক্রম চলত। অপর পাশে পরিচালক পরিবারসহ বসবাস করতেন। বিস্ফোরণের পর ভবনের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে ককটেল, দাহ্য কেমিক্যাল এবং বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পাশের ভবনের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বিস্ফোরণে তাদের ভবনের দেয়াল ফেটে গেছে। ঘরের আসবাবপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরেক বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, বিস্ফোরণের সময় ওপর থেকে ইট পড়ে তিনি আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
বাড়ির মালিক পারভীন বেগম বলেন, তিন বছর ধরে তার বাড়িতে মাদরাসা পরিচালিত হচ্ছিল। ভেতরে কী ধরনের কার্যক্রম চলছিল, তা তিনি জানতেন না। বিস্ফোরণের পর পুরো ভবন তছনছ হয়ে গেছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ঘটনার পর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ক্রাইম সিন ইউনিট ককটেল ও দাহ্য পদার্থ উদ্ধার করা করেছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স