ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​ভারতে বাংলাদেশের ৪ ভিসা সেন্টার বন্ধ, কলকাতায় বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২৩-১২-২০২৫ ১১:৪৪:০৯ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ২৩-১২-২০২৫ ১২:০৮:০১ অপরাহ্ন
​ভারতে বাংলাদেশের ৪ ভিসা সেন্টার বন্ধ, কলকাতায় বিক্ষোভ ​ছবি: সংগৃহীত
ভারতের বিভিন্ন শহরে টানা বিক্ষোভ ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে একের পর এক বাংলাদেশি ভিসাকেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নয়াদিল্লি ও শিলিগুড়ির পর ত্রিপুরার আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনও অনির্দিষ্টকালের জন্য ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত করেছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞপ্তিতে আগরতলার সহকারী হাইকমিশন জানায়, ‘অনিবার্য কারণবশত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা বন্ধ থাকবে।’ তবে সিদ্ধান্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

এ নিয়ে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ভারতের চারটি শহর—নয়াদিল্লি, শিলিগুড়ি, আগরতলা ও গুয়াহাটিতে বাংলাদেশি ভিসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেল। যদিও কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে এখনো স্বাভাবিকভাবে সেবা চালু রয়েছে।

ভিসাকেন্দ্র বন্ধের ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। এরই মধ্যে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারত সরকার ঢাকায় ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রামেও ভারতীয় ভিসাকেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।

চট্টগ্রামে ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশন লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে এবং এ ঘটনায় অন্তত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

একই সময়ে সিলেটেও উত্তেজনা ছড়ালে ভারতীয় কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এবং ময়মনসিংহে পোশাকশ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস হত্যার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে বাংলাদেশি ভিসা সেবাকেন্দ্র ঘেরাও করে বিক্ষোভ করা হয় বলে জানা গেছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, হিন্দু জাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাঘাযতীন পার্ক থেকে মিছিল নিয়ে ভিসাকেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেন।

বিক্ষোভ চলাকালে বাংলাদেশের পতাকাসংবলিত ফ্লেক্স ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকায় আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভিসাকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রতিবাদ জানায় এবং কেন্দ্র বন্ধ রাখার দাবি তোলে। এর পরপরই স্থানীয় সূত্রে ভিসাকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়।

উল্লেখ্য, শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক কার্যালয় নেই; বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে সেখানে ভিসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।

একই দিনে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনে সব ধরনের কনস্যুলার সেবা ও ভিসা প্রদান স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে তিন দফায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ‘নাস্তিক মঞ্চ’, জাতীয় কংগ্রেস এবং বিজেপি ও পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিভিন্ন সংগঠন এতে অংশ নেয়।

কলকাতায় উপহাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, আগে থেকেই পুলিশকে নোট ভারবাল দেওয়া থাকায় নিরাপত্তা জোরদার ছিল এবং বিক্ষোভকারীরা চত্বরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি।

জানা যায়, দিপু দাস হত্যার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও দিল্লি ও ত্রিপুরায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশই নিরাপত্তা বিবেচনায় একাধিক ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ