ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিজয় দিবসের আগের রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরে আগুন

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৬-১২-২০২৫ ০৪:২৪:১১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-১২-২০২৫ ০৬:০৪:৫৪ অপরাহ্ন
বিজয় দিবসের আগের রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরে আগুন সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
মহান বিজয় দিবসের আগের রাতে শরীয়তপুরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, আ. মান্নান খান ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। স্বাধীনতার পর তিনি নিজ গ্রামেই বসবাস করতেন। ২০১০ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাড়ির বসতঘরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে কবরের পাশে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরের ওপর আগুন দেয়ার চিহ্ন দেখতে পান স্ত্রী মাহফুজা বেগম। এ সময় তিনি চিৎকার দিলে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে আফরোজা আক্তার মোবাইল ফোনে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

আ. মান্নান খানের স্ত্রী মাহফুজা বেগম বলেন, আমার স্বামী দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। বিজয় দিবসের আগে তার কবরে এমন কাজ আমাদের জন্য অসম্মানজনক ও কষ্টদায়ক। কারা, কেন, কি উদ্দেশ্যে এ ১৬ ডিসেম্বর তার কবরে আগুন দিল বিষয়টি তদন্ত করতে হবে। মেয়ে আফরোজা আক্তার বলেন, আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এটি আমার এবং আমাদের গ্রামবাসীর গর্ব। আজকের ঘটনাটি শুধু আমাদের পরিবারের নয়, পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক। আমরা চাই দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর অবমাননা মানে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনার ওপর আঘাত। যারা এদেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না তারাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, মোবাইল ফোনে বিষয়টি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান খানের মেয়ে আমাকে অবহিত করে। সঙ্গে সঙ্গেই সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটলেও কবরের স্থাপনার কোনো ক্ষতি হয়নি। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বিষয়টি অবগত হয়েছেন। সব বিভাগ থেকেই তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজয় দিবসের প্রাক্কালে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরে আগুন দেয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ