ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির ঘরে, শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা

​শীতে কাঁপছে উত্তরের মানুষ

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৬-১২-২০২৫ ০৬:৫৮:২৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৬-১২-২০২৫ ০৬:৫৮:২৬ অপরাহ্ন
​শীতে কাঁপছে উত্তরের মানুষ সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
উত্তরাঞ্চলে ক্রমেই বাড়ছে শীতের দাপট। কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা, বইছে হিমেল হাওয়া। বেড়েছে সকাল ও সন্ধ্যায় শীতের অনুভূতি, আর ফসলি জমি ও ঘাসের ডগায় জমছে শিশিরবিন্দু।  শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড করা হয়। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস সর্বনিম্ন ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। এদিকে বাড়ছে শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা। আর শীতের দাপটে জবুথবু উত্তরের জনজীবন। বাংলাস্কুপের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত-

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান- দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। গতকাল শনিবার  সকাল ৯টায়  তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস সর্বনিম্ন ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। এর আগে মঙ্গলবার জেলায় এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর টানা তিন দিন (বুধবার-শুক্রবার) তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রচণ্ড ঠান্ডায় এ অঞ্চলে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেছে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘টানা কয়েক দিন তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ছিল। আজ তা নেমে ১০.৫ ডিগ্রিতে এসেছে।’ সামনের দিনগুলোতে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান- কুড়িগ্রামে এক সপ্তাহ ধরে পড়ছে ঘন কুয়াশা। সেই সঙ্গে বেড়েছে শীতের তিব্রতা। বেলা বাড়ার সাথে সঙ্গে তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে আবহাওয়ার পরিবর্তনে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি শিশু-বৃদ্ধরা। গতকাল শনিবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় সন্ধ্যার পর থেকে সকাল অব্দি অনুভূত হচ্ছে ঠান্ডা।  

শীতের তীব্রতা ও ঠান্ডার বাড়ায় জেলার বিভিন্ন  শপিংমল ও ছোট বড় দোকানগুলোতে দিন রাত গরম কাপড় কেনার ভিড় বেড়েছে ক্রেতাদের। কুড়িগ্রাম পৌর শহরের সুপার মার্কেট, নছর উদ্দিন মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। তিন দিন ধরে শীতের তীব্রতা বাড়ায় শীত নিবারণের জন্য মানুষ ছুটছেন বিপণী বিতানগুলোতে। উচ্চবিত্ত মানুষ জন শপিং মলে ছুটলেও নিম্ন বিত্তবান মানুষের ভরসা পুরোনো কাপড় বিক্রির দোকানগুলো। গরম কাপড় কিনতে আসা যাত্রপুর ইউনিয়নের আমিনুল ইসলাম (৫০) বলেন, ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডায় কাজ কাম করতে পারি নাই। হাতে টাকা নাই তাই ধার দেনা করে বাচ্চাদের জন্য কাপড় কিনতে এসেছি। গত বছরের তুলনায় এ বছর কাপড়ের দাম বেশি। ছোট বাচ্চার একটা সোয়েটার ৫০০ টাকা দিয়ে কিনলাম। অথচ আগে এই সোয়েটার ছিল ২০০- ৩০০ টাকা। কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, দিন দিন তাপমাত্রা কমে শীতের তীব্রতা বাড়বে এ জেলায়। জেলায় গড়ে ১২ থেকে ১৫ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ঘণ্টায় ১০ হতে ১৪ কিলোমিটার বাতাসের বেগ বিরাজ করছে।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান- নীলফামারীতে ক্রমেই বাড়ছে শীতের প্রভাব। কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা, বইছে হিমেল হাওয়া। বেড়েছে সকাল ও সন্ধ্যায় শীতের অনুভূতি, আর ফসলি জমি ও ঘাসের ডগায় জমছে শিশিরবিন্দু। গতকাল শনিবার সকাল ৬টায় নীলফামারীর ডিমলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শহর ঘুরে দেখা যায়, ফসলি জমি ও ঘাসের ডগায় জমে আছে শিশিরবিন্দু। দিনে রোদ থাকলেও রাত নামলেই শীত অনুভব হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যরাতের পর শীতের তীব্রতা বাড়ছে। সকালে যানবাহন হেট লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। শহর ও গ্রামীণ এলাকাগুলোতে শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটার জন্য বাজারেও মানুষের ভিড় কম দেখা গেছে।

হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। জলঢাকা উপজেলার বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, আমাদের জেলায় আগে শীত শুরু হয়। দিন যতো যাচ্ছে শীতের অনুভব তত বাড়ছে। এখন দিনের বেলা রোদ দেখা দিলেও তেমন তাপ থাকে না। আরেক বাসিন্দা কামরুল হোসেন বলেন, আগেকার থেকে এখন প্রচুর শীত অনুভব হচ্ছে।  ভ্যানচালাক মিনারুল ইসলাম বলেন, সকালে ভ্যান নিয়ে বের হই ভীষণ কুয়াশা আর ঠান্ডার কারণে মানুষ বেশি উঠতে চায় না। শীতের সময়ে আয় রোজকার কিছুটা কমে যায়। ডিমলা আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক বাবুল হোসেন বলেন, আজ সকাল ৬টায় ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এখন কুয়াশা পড়ছে, সামনে কুয়াশা ও শীত আরও বাড়বে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ