ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​সঞ্চালন লাইনে কাজ করতে গিয়ে আবারো প্রাণ গেল বিদ্যুৎকর্মীর

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৬-১১-২০২৫ ০৬:৪১:০২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৬-১১-২০২৫ ০৭:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন
​সঞ্চালন লাইনে কাজ করতে গিয়ে আবারো প্রাণ গেল বিদ্যুৎকর্মীর গ্রাফিক্স : বাংলা স্কুপ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও সঞ্চালন লাইনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক বিদ্যুৎকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নাম মো. নজরুল ইসলাম (৫৫)। তিনি ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) সিদ্ধিরগঞ্জ ডিভিশনের বাৎসরিক ঠিকাদার এফএফ ফার্মে কর্মরত ছিলেন।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমুলপাড়া বিহারী ক্যাম্পের পাশে সোনা মিয়া মার্কেটের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় আহত হন রাজ্জাক (৪৭) ও করিম নামের আরো দুই বিদ্যুৎকর্মী। রাজ্জাককে রাজধানীর জাতীয় বার্ণ ইন্সস্টিটিউটে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ডিপিডিসির গ্রিড সাউথের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ ডাইরেক্ট ওভারহেড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে (ফিডার) কাজ করছিলেন ওই দুই শ্রমিক। হঠাৎ সঞ্চালন লাইন চালু হওয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নজরুল ইসলামের। দীর্ঘক্ষণ তাঁর মরদেহ ট্রান্সফরমারে ঝুলছিল। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে মরদেহ উদ্ধার করে খানপুর ৩০০-শয্যা হাসপাতালে  ময়না তদন্তের জন্য পাঠান।

দগ্ধ বিদ্যুৎকর্মী রাজ্জাককে তাঁর সহকর্মীরা জাতীয় বার্ণ ইন্সস্টিটিউটে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাসায় চলে যান বলে জানা গেছে। অপর বিদ্যুৎকর্মী করিম পড়ে গিয়ে আহত হন।

এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে শ্যামপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হানিফ উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ডিপিডিসি। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন ডেমরা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শের আলী ও এনওসিএস নারায়ণগঞ্জ পশ্চিমের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান। বুধবার বিকেলে ডিপিডিসির সাউথের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক সার্কুলার থেকে এ তথ্য জানা যায়। কমিটিকে দুই কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) কিউ এম শফিকুল ইসলাম বলেন, যে কোনো মৃত্যুই দুঃখজনক। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকাল দশটা ৩৩মিনিটে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, অথচ আমি জানতে পেরেছি দুপুর আড়াইটার পর। ডিপিডিসির ৩৬টি ডিভিশনের অপারেশন দেখার দায়-দায়িত্ব আমার। অথচ এত বড় দুর্ঘটনার চার ঘন্টা পর আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে। 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রিড সাউথ কি কাজ চলাকালে সঞ্চালন লাইন চালু করেছিল, নাকি অন্য কোন কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছিল- তা তদন্ত ছাড়া এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। 

দুর্ঘটনার বিস্তারিত জানতে সিদ্ধিরগঞ্জ ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত অধিকারী ও ফিডার ইনচার্জ সহকারী প্রকৌশলী মো. রাহুলকে একাধিকবার মুঠোফোনে কলা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।

সিদ্ধিরগঞ্জ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (এসি) মো. শের আলী বাংলা স্কুপকে বলেন, দুর্ঘটনা কী কারণে ঘটেছে তা এখনই বলতে পারছি না। তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উঠে আসবে।

সিদ্ধিরগঞ্জ ডিভিশনে চলতি বছরই এরকম আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ডিপিডিসি প্রধান  কার্যালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, সিদ্ধিরগঞ্জ ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত অধিকারীর অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার বিষয়ে গত দেড় বছরে একাধিক গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। গঠন হয়েছিল তদন্ত কমিটিও। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনে কখনই প্রকৃত চিত্র উঠে আসেনি। এতে করে ওই নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বেচ্ছাচারিতা আরো বেড়েছে। তিনি দিন দিন হয়ে উঠেছেন আরো বেপরোয়া।

সূত্র আরো জানায়, প্রধান কার্যালয়ের এক নির্বাহী পরিচালক ও এক প্রধান প্রকৌশলীর প্রভাবের কারণে অমিত অধিকারীর বিরুদ্ধে কখনই কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

এসব বিষয়ে জানতে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নূর আহমদকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমডির দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলতে এমডি বেশ কিছুদিন যাবত কারো ফোনই ধরছেন না।

সিদ্ধিরগঞ্জ ডিভিশনের সূত্র থেকে জানা যায়, যথারীতি নিয়ম মেনেই শাটডাউন নিয়ে সঞ্চালন লাইনে কাজ শুরু হয়েছিল। গ্রিড সাউথের কারিগরি ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। সূত্রটি আরো জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ ডিভিশনে প্রতিমাসেই গ্রাহকের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে সঞ্চালন লাইনে কিছু না কিছু কাজ হয়ে থাকে। ওই কাজগুলো করতে গিয়ে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে, যা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কখনই জানতে পারে না। এসব অনিয়ম করছে নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত অধিকারী ও সহকারী প্রকৌশলী মো. রাহুলের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট। এতে করে ডিপিডিসি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এদিকে, নিহত বিদ্যুৎকর্মী নজরুল ইসলামের পরিবারের প্রশ্ন, এই মৃত্যুর দায় নেবে কে? তাদের পরিবারই বা চলবে কীভাবে?

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এএ/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ