ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​ইউটিউবে দেখে কমলা চাষে বাজিমাত

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৬-১১-২০২৫ ১১:৫৬:০৪ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ২৬-১১-২০২৫ ১২:২৮:৩৪ অপরাহ্ন
​ইউটিউবে দেখে কমলা চাষে বাজিমাত সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
প্রতিটি গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলে আছে কমলা। প্রথম দেখাতে যে কারও মনে হতে পারে এটা বিদেশের কোনো ফলের বাগান। কিন্তু না, বাগানটি করেছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম পশ্চিম মিঠাখালী গ্রামের প্রবাস ফেরত কৃষক ফিরোজ মাতুব্বর।  তিনি ইউটিউব দেখে দার্জিলিং জাতের কমলা বাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। তার বাগানের শতাধিক গাছে থোকায় থোকায় কমলা ধরেছে। কমলা আকারে যেমন বড়, তেমন স্বাদেও খুব মিষ্টি। কমলা বাগানের প্রবেশমুখে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা হলুদ ও সবুজ বর্ণের কমলা। প্রতি থোকায় কমপক্ষে ১০টি করে কমলা ঝুলে আছে।

ফিরোজ মাতুব্বর জানান, ৬ বছর আগে উপজেলার বেতমোর ইউনিয়নের পশ্চিম মিঠাখালী গ্রামে অনাবাদি ৩৩ শতাংশ জমিতে দার্জিলিং জাতের ১২০টি কমলার চারা রোপণ করেন তিনি। ইতোমধ্যে প্রতিটি গাছে ৩০ থেকে ৫০ কেজি করে কমলা ধরেছে। গতবছর ৪ লাখ টাকায় কমলা বিক্রি করলেও এ বছরে ৫-৭ লাখ টাকার কামলা বিক্রির আশা করেন। তিনি আরও জানান, তার বাবা মতিলাল মাতুব্বর একজন প্রান্তিক চাষি। তিনি শিশুকাল থেকেই বাবার সঙ্গে কৃষিশ্রমে সহায়তা করতে শুরু করেন। ২০০৫ সালে পৈত্রিক জমি আর হালের বলদ বিক্রি করে সৌদি আরবে যান তিনি। সেখানে একটি সিমেন্ট কারখানায় কয়েক বছর কাজ করেন। অবসর সময় ইউটিউবে দেখে স্বপ্ন বুনেন দেশে ফিরে কমলার বাগান করবেন। সৌদি আরবে থাকার সময় কুষ্টিয়ার জীবনগরের একজনের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। তার কাছ থেকে কমলা চাষের বিষয়ে প্রথম জানতে পারেন ফিরোজ। পরে তিনি কুষ্টিয়ার।জীবননগরের ওমর ফারুক খানের নার্সারি থেকে ১০ হাজার টাকার কমলার চারা সংগ্রহ করেন। তার স্ত্রী নাসিমা বেগম প্রথমে বাগানের কাজ শুরু করেন। ৪ বছর ধরে ভালো ফলন পাচ্ছেন। কমলা চাষে খরচ কম লাগে। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের দেখার জন্য কমলা গাছেই রেখে দিয়েছেন। খেতে দিচ্ছেন এ কমলা। ৩-৪ লাখ টাকার চারা বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন।

ফিরোজ মাতুব্বরের স্ত্রী নাসিমা বেগম জানান, মঠবাড়িয়া ভিতরে এই একটি বাগান রয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে অনেকে দেখতে আসেন। কমলা বাগানটি করে আজ তিনি সফল। অল্প একটু জায়গার মধ্যে এত কমলা হয় তা আমার ধারণা ছিল না। শুরু থেকেই আমি আমার স্বামীর সাথে বাগানে পরিচর্যার কাজ করেছি, এখনো বাগান দেখাশোনা করি। স্থানীয়রা জানান, যখন ফিরোজ মাতুব্বর কমলা চাষ শুরু করেন। তখন তার কাজটিকে অনেকেই পাগলামি বলেছেন। তার কাজটিকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও গাছে কমলা দেখে সবাই অভিভূত। তিনি এখন এলাকার অনেকের অনুকরণীয় আদর্শ কমলা চাষি। তার সফলতা দেখে অনেক বেকার যুবক কমলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।মঠবাড়িয়া উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবু জাফর মো. সালেহ্ জানান, আমদানিনির্ভরতা কমানোর জন্য অনেক চাষিকে আমরা কমলা চাষে উৎসাহিত করছি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সার সরবরাহ করছি। উপজেলা কমলা চাষে একটা উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় জায়গা হতে পারে। আর এই কমলা চাষিকে পরামর্শ এবং বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করে করে যাচ্ছি।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ