ঢাকায় এসেই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ নিলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২২-১১-২০২৫ ১১:৫১:০৫ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
২২-১১-২০২৫ ১২:৩৬:০২ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় এসে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ নিয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৮টায় ড্রুকএয়ারের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয়।
এ সময় তিনি শুক্রবারের (২১ নভেম্বর) ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানতে চান এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৫.৭। ভূমিকম্পে বাবা-ছেলেসহ পাঁচজন, ঢাকায় চারজন এবং নারায়ণগঞ্জে এক শিশুর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন কয়েক শত মানুষ।
বিমানবন্দরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ভিআইপি লাউঞ্জে দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত বৈঠক শেষে শেরিং তোবগেকে ১৯ বন্দুক স্যালুট এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা হন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং স্মারক বইতে স্বাক্ষর করেন।
সূত্র জানিয়েছে, দুপুরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিকেল ৩টার দিকে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজেও যোগ দেবেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) পররাষ্ট্রসচিব মো. আসাদ আলম সিয়াম জানান, একান্ত বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, পর্যটন, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া এবং শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি, পর্যটন ও ক্রীড়া বিষয়ে ভুটানের সঙ্গে নতুন সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি ভুটানে বাংলাদেশি পেশাজীবী নিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা চাওয়া হতে পারে। আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে।
বৈঠক শেষে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ, ভুটানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং কৃষি সহযোগিতা–এই তিনটি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৩ নভেম্বর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স