ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​লামায় ইটভাটা অভিযানে সংঘর্ষে আহত ৫৭, গ্রেপ্তার ৫

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২০-১১-২০২৫ ০৬:৩৪:৫০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২০-১১-২০২৫ ০৮:০০:৩২ অপরাহ্ন
​লামায় ইটভাটা অভিযানে সংঘর্ষে আহত ৫৭, গ্রেপ্তার ৫ ​ছবি: সংগৃহীত
বান্দরবানের লামার ফাইতং পাগলীর আগা এলাকায় ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে যাওয়ার পথে শ্রমিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের পাহাড়তলী এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে গঠিত স্পেশাল টিমের নেতৃত্বে ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজুয়ান উল ইসলাম। অভিযানে বান্দরবান জেলা প্রশাসন, লামা উপজেলা প্রশাসন, বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর অফিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিস অংশ নেয়।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় স্পেশাল টিম লামার ফাইতং ইউনিয়নের পাগলীর আগা এলাকায় ইটভাটায় অভিযানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে পাহাড়তলী এলাকায় পৌঁছালে ইটভাটার শ্রমিক ও স্থানীয় নারী-পুরুষ সড়কে ইটের স্তুপ দিয়ে ট্রাক, ডাম্পার ও মিনি পিকআপ রেখে স্পেশাল টিমকে বাঁধা দেয় ও গতিরোধ করে। এর আগেও ১৬ নভেম্বর মানিকপুর এলাকায় স্পেশাল টিমকে বাধা দেওয়া হয়েছিল।

প্রশাসন অনুরোধ করলেও শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে যায়নি। দুপুর ১২টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা সরানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে বিজিবি ও পুলিশের ৭ সদস্যসহ মোট ৫৭ জন আহত হন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, বিজিবি ও ট্রাকসহ মোট ৬টি গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ইটভাটার ৫ শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে স্পেশাল টিম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফিরে যায়। এই নিয়ে গত ৪দিন ইটভাটায় অভিযানকালে বাঁধার মুখে পড়ে প্রশাসন।

চকরিয়া থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকরা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলা করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি ভাংচুর করেছে এবং অনেকে আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চকরিয়া থানায় রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০০–৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযানে আলীকদম সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর হাফিজ, লামা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত আহমেদ, লামা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুম সর্দার, চকরিয়া থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ তৌহিদুল আনোয়ার, লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তর অংশ নেয়।

শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নারী-শিশুসহ তাদের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে, যার মধ্যে ২০ জনের বেশি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, আমাদের রুটি রোজগারের জায়গা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। ইটভাটা বন্ধ হলে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে। তাই তারা বাধ্য হয়েই প্রতিবাদে নেমেছেন।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ