ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন আশকার উদ্দিন আহমেদ শাহীন। আয়-রোজগারও ছিল বেশ ভালো। কিন্তু তা আর স্থায়ী হয়নি। করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েন তিনি। তবে হতাশ না হয়ে গরুর খামার গড়ে তোলেন তিনি। মাত্র চার বছরের মাথায় বর্তমানে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। শাহীন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের ঢালীকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
এ সময় শাহীন জানান, নিজ গ্রামে জমানো টাকা দিয়ে প্রথমে একটি গোয়াল ঘর নির্মাণ করেন তিনি। ভাই-বোন ও শ্বশুরের সহযোগিতা এবং কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ২০২২ সালে চারটি গরু (ষাঁড়) দিয়ে খামারের যাত্রা শুরু হয় তার। পরে কয়েকটি গাভী কেনেন। এখন সেই খামারে গাভী ও ষাঁড় মিলিয়ে রয়েছে মোট ১৮টি পশু। এর মধ্যে ছয়টি গাভী থেকে প্রতিদিন ৫০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অদম্য ইচ্ছেশক্তি ও পরিশ্রমে সফল খামারি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শাহীন।
গরুর খামারের পাশাপাশি তিনি একটি লেয়ার জাতের মুরগির খামারও গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে সেখানে প্রায় এক হাজারের বেশি মুরগি রয়েছে। প্রতিটি মুরগির দৈনিক খরচ সাত-আট টাকা হলেও ডিম বিক্রি করে ৯ থেকে ১০ টাকা আয় হয়। অর্থাৎ প্রতিটি মুরগিতে দুই থেকে তিন টাকা লাভ হয়। শিগগির একটি মাছের খামার চালুর পরিকল্পনাও করছেন তিনি।
আকতারুজ্জামান নামের এক প্রতিবেশী বলেন, ‘আমার ভাগিনা (শাহীন) ছোট থেকে শুরু করে আজ একজন সফল খামারি হয়েছে। আমরা সবসময় দেখেছি তার ধৈর্য, পরিশ্রম এবং লক্ষ্যবদ্ধ ইচ্ছাশক্তি। আজ পুরো এলাকা তাকে অনুসরণ করছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, চেষ্টা থাকলে যে কেউ সফল হতে পারে।’ আরেক প্রতিবেশী মুফতি আলাউদ্দিন বলেন, ‘শাহিন মিয়ার সাফল্য দেখে এলাকার তরুণরা উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী হচ্ছে। তারা উপলব্ধি করতে পারছে, চাকরির পেছনে না ঘুরেও ছোট পরিসরে ব্যবসা করে সফলতা অর্জন করা সম্ভব।’
লেয়ার মুরগির খামারে কথা হয় আশকার উদ্দিন আহমেদ শাহীনের সঙ্গে। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, করোনাকালে চাকরি হারিয়ে বিপাকে পড়ি। চাকরির পেছনে না ছুটে সিদ্ধান্ত নিলাম গ্রামে ডেইরি ফার্ম গড়ে তোলার। প্রথমে পরিবার বাধা দিলেও পরে পরিবারের সহযোগিতায় কঠোর পরিশ্রম করে ইচ্ছা বাস্তবায়ন করি। ষাঁড় দিয়ে শুরু করলে লাভের মুখ দেখি। এরপর লেয়ার মুরগির খামারেও ভালো আয় হচ্ছে। শিগগির মাছের খামার চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে। আমার এখানে দুইজনের কর্মসংস্থান হয়েছে।
তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিয়ে শাহীন বলেন, ব্যবসা সবচেয়ে স্থায়ী আয় দেয়, স্বাধীনতা বেশি থাকে এবং চাকরি হারানোর ভয় নেই। সৎভাবে হালাল রোজগার করতে চাইলে চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হোন। ছোট পরিসরে শুরু করুন, কঠোর পরিশ্রম করুন। নিজের হাতে কাজ করতে হবে, তখন সফলতা নিশ্চিত।
শিবচর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হরিশ চন্দ্র বোস বলেন, নিঃসন্দেহে শাহীন একজন সফল খামারি ও উদ্যোক্তা। আমরা তাঁকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছি। আমাদের প্রাণিসম্পদ সেক্টর উদীয়মান একটি খাত। এই খাতে আগ্রহী নতুন প্রজন্মের জন্য রয়েছে প্রচুর সুযোগ। তিনি বলেন, শিক্ষিত বেকার বা বিদেশ থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা এই সেক্টরে কাজ করতে চাইলে, তাদের জন্য ভাগ্য পরিবর্তনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ডেইরি ফার্মসহ অন্যান্য খামার দিয়েও লাভবান হওয়া সম্ভব। যারা উদ্যোক্তা হতে ইচ্ছুক, তাদের আমরা সব ধরনের সহায়তা দেব।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন